ভারতে নিযুক্ত পাকিস্তানের সাবেক হাইকমিশনার আব্দুল বাসিত এক বিস্ফোরক মন্তব্য করে আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছেন। চলমান ইরান যুদ্ধ এবং পরিবর্তিত ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে তিনি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি পাকিস্তানের অস্তিত্ব বা পারমাণবিক সক্ষমতার ওপর আঘাত হানে, তবে তার পাল্টা জবাব হিসেবে ভারত আক্রান্ত হতে পারে।
২০১৪ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত দিল্লিতে পাকিস্তানের শীর্ষ কূটনীতিক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা আব্দুল বাসিত একটি আলোচনায় এই মন্তব্য করেন। তিনি একটি চরম প্রতিকূল পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে বলেন, “ধরা যাক ইরানের পরিস্থিতি আরও খারাপ হলো এবং ইসরায়েল আমাদের আরও কাছাকাছি অবস্থান নিল। এমন পরিস্থিতিতে যদি যুক্তরাষ্ট্র আমাদের পারমাণবিক কর্মসূচির ওপর আঘাত হানার চেষ্টা করে, তবে পরিস্থিতি ভিন্ন হবে।”
বাসিত তার যুক্তিতে ব্যাখ্যা করেন, যদি যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানকে আক্রমণ করে এবং পাকিস্তান সরাসরি মার্কিন ভূখণ্ডে আঘাত হানতে না পারে, তবে ভারতই হবে তাদের প্রধান লক্ষ্যবস্তু বা ‘ডিফল্ট টার্গেট’। তার মতে, ওয়াশিংটন বা দূরবর্তী মার্কিন ঘাঁটিতে পৌঁছাতে না পারলে পাকিস্তানের হাতে একমাত্র বিকল্প থাকবে ভারত।
তিনি আরও যোগ করেন, “আমাদের সামনে তখন আর কোনো পথ থাকবে না। কেউ যদি আমাদের দিকে শত্রুতামূলক দৃষ্টিতে তাকায়, তবে কোনো দ্বিধা ছাড়াই আমরা ভারতের দিল্লি বা মুম্বাইয়ের মতো শহরগুলোতে আক্রমণ করব। পরবর্তী ফলাফল কী হবে, তা পরে দেখা যাবে।” বাসিতের এই হুমকি মূলত ইরানের সেই রণকৌশলের মতো, যেখানে তারা যুক্তরাষ্ট্রে আঘাত করতে না পেরে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন মিত্রদের লক্ষ্যবস্তু করার নীতি গ্রহণ করে।
যদিও আব্দুল বাসিত এই পরিস্থিতিকে অত্যন্ত অস্বাভাবিক এবং ‘অসম্ভবের তালিকায়’ বলে উল্লেখ করেছেন, কারণ পাকিস্তানের আত্মরক্ষার পূর্ণ সক্ষমতা রয়েছে। তবে তাত্ত্বিকভাবে এমন চরম সংঘাতের সম্ভাবনা তিনি একেবারে উড়িয়ে দেননি। বর্তমান ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনার মাঝে তার এই মন্তব্য দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে নতুন করে কূটনৈতিক টানাপোড়েন তৈরি করতে পারে।







