সিলেট মহানগর জামায়াতের উদ্যোগে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এমপি সংবিধান এবং জনআকাঙ্ক্ষা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “সংবিধানের জন্য জনগণ নয়, বরং জনগণের জন্যই সংবিধান তৈরি করা হয়েছে।”
শনিবার সিলেটে অনুষ্ঠিত এই সভায় ডা. শফিকুর রহমান বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট টেনে বলেন, আজ অনেকেই কথায় কথায় সংবিধানের দোহাই দিচ্ছেন। অথচ ২০২৬ সালের এই বিশেষ নির্বাচন কিংবা বর্তমান সংসদীয় কাঠামো—যেখানে একটি দল সরকার গঠন করেছে এবং অন্যটি প্রধান বিরোধী দল হয়েছে—তার কোনো কিছুই আগের সংবিধানে উল্লেখ ছিল না। এই পরিবর্তন সম্ভব হয়েছে কেবল জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ত্যাগের বিনিময়ে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা সমুন্নত রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে হলে ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের কোনো বিকল্প নেই। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মাধ্যমে অর্জিত এই বিজয়কে অর্থবহ করতে হলে প্রচলিত ব্যবস্থার সংস্কার জরুরি।
দেশের সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে জামায়াত আমির আক্ষেপ করে বলেন, বাংলাদেশে সম্পদের অভাব নেই, অভাব কেবল চারিত্রিক সম্পদের। আর এই নৈতিক অবক্ষয়ের কারণেই আমরা আমাদের কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়তে পারছি না। অথচ আমাদের সন্তানেরা বিশ্বের দরবারে নিজেদের মেধার স্বাক্ষর রেখে চলেছেন। তিনি ঘোষণা করেন, জামায়াত আগামী দিনে এই মেধাবীদেরই জাতির নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠিত করতে চায়।
সিলেট মহানগর জামায়াতের এই ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে স্থানীয় শীর্ষ নেতৃবৃন্দ এবং বিপুল সংখ্যক কর্মী-সমর্থক উপস্থিত ছিলেন। বিরোধীদলীয় নেতার এই বক্তব্য বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন রাজনৈতিক সংস্কার প্রক্রিয়ায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।







