মিয়ানমারে জান্তা-বিরোধী বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর সামরিক তৎপরতা তীব্রতর হয়েছে। আজ এক ভিডিও বার্তায় বিদ্রোহীরা দাবি করেছে, তারা দেশটির রাজধানী নেপিডোর নিকটবর্তী একটি সামরিক চৌকিতে ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এই আকস্মিক হামলায় জান্তা বাহিনীর অন্তত ৭ জন সৈন্য নিহত হয়েছে বলে জানা গেছে।
এদিকে, প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতের নিরাপত্তা বাহিনী মিয়ানমারের সশস্ত্র মিলিশিয়া গোষ্ঠীকে অবৈধভাবে ড্রোন প্রশিক্ষণ দেওয়ার অভিযোগে ছয়জন ইউক্রেনীয় এবং একজন মার্কিন নাগরিককে গ্রেফতার করেছে। ভারতের জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ) দিল্লি, লখনউ এবং কলকাতা থেকে তাদের আটক করে। অভিযোগ রয়েছে, তারা মিজোরাম সীমান্ত দিয়ে মিয়ানমারে প্রবেশ করে বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোকে অত্যাধুনিক ড্রোনের কারিগরি ও ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ দিচ্ছিল।
তদন্তকারীদের দাবি, ইউরোপ থেকে বিপুল পরিমাণ ড্রোন অবৈধভাবে ভারতে আনা হয়েছিল, যা পরবর্তীতে মিয়ানমারের যুদ্ধে ব্যবহারের পরিকল্পনা ছিল। এনআইএ-এর পক্ষ থেকে গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে ভারতের রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছে। দোষী সাব্যস্ত হলে তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে।
এই চাঞ্চল্যকর তথ্য এমন সময় সামনে এল যখন গত বছর মিজোরামের মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেছিলেন যে, ‘হাজার হাজার’ পশ্চিমা ভাড়াটে যোদ্ধা তার রাজ্য হয়ে মিয়ানমারে প্রবেশ করেছে। পশ্চিমা বিশ্বের এই যোদ্ধাদের অনুপ্রবেশ ভারতের সীমান্ত নিরাপত্তার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিদ্রোহীদের এই ড্রোন হামলা এবং বিদেশি প্রশিক্ষকদের গ্রেফতারের ঘটনাটি মিয়ানমারের গৃহযুদ্ধে বহিরাগত শক্তির প্রভাব নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নেপিডোর মতো সুরক্ষিত এলাকায় ড্রোন হামলা চালানোর সক্ষমতা অর্জন জান্তা বাহিনীর জন্য এক বড় ধরনের হুমকি।
