নিজেদের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে কোনো ধরনের হামলা চালানো হলে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক রুট ‘হরমুজ প্রণালি’ সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক হুমকির জবাবে গতকাল শনিবার (২১ মার্চ) এই পাল্টা বার্তা দিল তেহরান। আজ রবিবার (২২ মার্চ) ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে এই কঠোর অবস্থানের কথা জানায়।
আইআরজিসির বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্যবস্তু করা হলে হরমুজ প্রণালি ‘সম্পূর্ণরূপে’ বন্ধ করে দেওয়া হবে। যতদিন পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলো পুনরায় নির্মিত না হবে, ততদিন এই অবরোধ বলবৎ থাকবে। এছাড়া ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র আক্রান্ত হলে পাল্টা জবাব হিসেবে ইসরায়েলের বিদ্যুৎকেন্দ্র, জ্বালানি অবকাঠামো এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি স্থাপনায় ‘ব্যাপক হামলা’ চালানোর হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের যেসব দেশে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে এবং যেসব কোম্পানিতে যুক্তরাষ্ট্রের মালিকানা আছে, সেগুলোকে ‘বৈধ লক্ষ্যবস্তু’ হিসেবে বিবেচনা করে ধ্বংস করে দেওয়া হবে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর থেকেই মূলত হরমুজ প্রণালি ইরানের কঠোর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। বর্তমানে তেহরানের অনুমতি ছাড়া কোনো জাহাজ বা ট্যাংকার এই রুট ব্যবহার করতে পারছে না।
এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে চরম অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের দাম ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। বাজার স্থিতিশীল করতে যুক্তরাষ্ট্র নানা পদক্ষেপ নিলেও ইরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে, হামলা বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সংশ্লিষ্ট কোনো জাহাজ হরমুজ পার হতে পারবে না। বাধা উপেক্ষা করলে সরাসরি হামলার হুমকি দেওয়া হয়েছে।
জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক মেরিটাইম অর্গানাইজেশনে (আইএমও) নিযুক্ত ইরানি প্রতিনিধি আলী মুসাভি জানিয়েছেন, নিরাপত্তা সাপেক্ষে প্রণালিটি সাধারণ নৌযানের জন্য উন্মুক্ত থাকলেও ‘শত্রু’ দেশগুলোর জন্য এটি নিষিদ্ধ। এদিকে হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখতে ট্রাম্প ন্যাটো মিত্রদের যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর অনুরোধ করলেও অধিকাংশ দেশ এখনো প্রস্তুত নয়। তবে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জাপানসহ ছয়টি দেশ নিরাপদ চলাচলের প্রচেষ্টায় যোগ দেওয়ার ইঙ্গিত দিলেও এখন পর্যন্ত কোনো বাস্তব পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
