মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা এক নতুন এবং বিপজ্জনক মোড় নিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো গুঁড়িয়ে দেওয়ার সরাসরি হুমকি দিয়েছেন। তিনি ইরানকে ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দিয়ে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি করিডোর ‘হরমুজ প্রণালি’ খুলে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন; অন্যথায় ইরানকে চরম পরিণতি ভোগ করার জন্য প্রস্তুত থাকতে বলেছেন।
ট্রাম্পের এই আলটিমেটামকে পাত্তাই দেয়নি তেহরান। উল্টো পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে ইরানের সেনাবাহিনী হুঙ্কার ছেড়েছে যে, যদি তাদের ওপর কোনো হামলা হয়, তবে পুরো মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি কেন্দ্রগুলো উড়িয়ে দেওয়া হবে। ইরানের সামরিক বাহিনী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ওয়াশিংটন যদি তাদের অবকাঠামোতে আঘাত হানে, তবে তার পাল্টা জবাব হবে অত্যন্ত ভয়াবহ।
ফার্স নিউজ এজেন্সির বরাতে দেওয়া এক বিবৃতিতে আইআরজিসি (ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী) জানায়, শত্রুপক্ষ যদি ইরানের জ্বালানি বা শক্তি অবকাঠামোতে সামান্যতম লঙ্ঘন করে, তবে ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের মালিকানাধীন সমস্ত জ্বালানি কেন্দ্র, তথ্যপ্রযুক্তি স্থাপনা এবং পানি শোধন (ডেসালিনেশন) প্রকল্পগুলোকে সরাসরি লক্ষ্যবস্তু করা হবে।
শনিবার (২১ মার্চ) রাতে ট্রাম্পের দেওয়া ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমার পর এই পাল্টাপাল্টি বিবৃতিতে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে যুদ্ধের দামামা বাজছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প মূলত বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ সচল রাখতে হরমুজ প্রণালিটি উন্মুক্ত করার দাবি জানালেও, ইরান একে তাদের সার্বভৌমত্বের ওপর হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখছে।
এদিকে, ইসরায়েলে সাম্প্রতিক উত্তেজনার পর যুক্তরাষ্ট্র স্বীকার করেছে যে, মোজতবা খামেনি জীবিত আছেন। এই প্রেক্ষাপটে মার্কিন-ইরান সম্পর্কের টানাপোড়েন এখন কেবল কূটনৈতিক স্তরে সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা সরাসরি সামরিক সংঘাতের দোরগোড়ায় পৌঁছেছে। দুই দেশের এই অনড় অবস্থান বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে চরম অস্থিরতা তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
