ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) তাদের চলমান প্রতিশোধমূলক অভিযান ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ ৪’-এর সর্বশেষ পরিস্থিতির কথা ঘোষণা করেছে। আইআরজিসি-র দাবি অনুযায়ী, অভিযানের ৭৩তম ঢেউয়ে শত্রুপক্ষের ওপর বড় ধরনের আঘাত হানা হয়েছে, যেখানে কয়েকশ মানুষ হতাহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এতে যুদ্ধের পাল্লা এখন তেহরানের দিকেই বেশি ভারী হচ্ছে বলে তারা ইঙ্গিত দিয়েছে।
শনিবার (২১ মার্চ) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, তাদের অ্যারোস্পেস ফোর্সের অত্যাধুনিক ‘ফাত্তাহ’, ‘কদর’ ও ‘এমাদ’ ক্ষেপণাস্ত্র এবং বিপুল সংখ্যক ড্রোন এই হামলায় ব্যবহার করা হয়েছে। বিশেষ করে অধিকৃত অঞ্চলের দক্ষিণ ও উত্তর অংশে অবস্থিত ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও নিরাপত্তা কেন্দ্রগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, ইসরায়েলি বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে দিয়ে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রগুলো আরাদ, ডিমোনা, ইলাত, বের শেভা এবং কিরিয়াত গাতের সামরিক স্থাপনায় সরাসরি আঘাত হেনেছে। এছাড়া কুয়েতের আলি আল-সালেম এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল-মিনহাদ ও আল-ধফরাতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকেও এই অভিযানের আওতায় আনা হয়েছে।
আইআরজিসি-র দাবি অনুযায়ী, হামলার প্রথম কয়েক ঘণ্টায় ২০০-এর বেশি মানুষ নিহত বা আহত হয়েছে। তবে তারা অভিযোগ করেছে যে, জায়নবাদী কর্তৃপক্ষ প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের সংখ্যা ধামাচাপা দিতে সাংবাদিক ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ওপর কঠোর সেন্সরশিপ আরোপ করেছে। বিশেষ করে অত্যন্ত সুরক্ষিত ডিমোনা পারমাণবিক চুল্লি এলাকায় ব্যাপক হতাহতের খবর পাওয়া গেলেও তা গোপন করার চেষ্টা চলছে।
একই সঙ্গে লেবাননের প্রতিরোধ আন্দোলন হিজবুল্লাহর যোদ্ধাদের বীরত্বপূর্ণ ভূমিকার প্রশংসা করেছে আইআরজিসি। তারা জানিয়েছে, হিজবুল্লাহ উত্তর ও মধ্যাঞ্চলে একটি ‘কঠিন যুদ্ধক্ষেত্র’ তৈরি করে ইসরায়েলি বাহিনীকে কোণঠাসা করে ফেলেছে। এতে অধিকৃত অঞ্চলের অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে এবং তারা এলাকা ছেড়ে পালাচ্ছে।
ইসরায়েলি সংবাদপত্র ‘ইয়েদিওথ আহরোনথ’ এই পরিস্থিতিকে গত ২৮ ফেব্রুয়ারির পর সবচাইতে ‘কঠিন রাত’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। আইআরজিসি পরিশেষে দাবি করেছে যে, যুদ্ধের সমীকরণ দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে এবং ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ এখন খাদের কিনারে। এই ভয়াবহ পরিস্থিতির জন্য তারা নেতানিয়াহুর যুদ্ধকালীন মন্ত্রিসভার উস্কানিমূলক নীতিকেই দায়ী করেছে।







