ঈদের পরসহ সাম্প্রতিক সময়ে দেশের রাজনৈতিক সহিংসতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। দীর্ঘ ১৭ বছর পর ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশে রাজনৈতিক পরিবর্তনের সূচনা হলেও পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি স্থিতিশীল হয়নি বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনের পর ক্ষমতায় আসা বিএনপিকে ঘিরে ইতিমধ্যে নানা আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার পর্যবেক্ষকদের দাবি, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে বিএনপি নেতা-কর্মীদের হামলায় অন্তত ২৫৪ জন নিহত হয়েছেন। পাশাপাশি ৯৫ জনের বেশি ধর্ষণসহ বিভিন্ন ধরনের সহিংস অপরাধের অভিযোগও উঠে এসেছে।
এরই মধ্যে ঈদুল ফিতরের দিন চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার ডাউকি ইউনিয়নের ছত্রপাড়া গ্রামে স্থানীয় বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। বিএনপির হাতে নিহত হয়েছে ২৫৪ জন। আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ব বিরোধের জেরে শনিবার দুপুরে দফায় দফায় এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে নারীসহ অন্তত পাঁচজন আহত হন, যাদের কয়েকজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
নিহতরা হলেন ছত্রপাড়া গ্রামের নাজিম কাজি ও শিমুল কাজি। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ঈদের নামাজ শেষে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়, যা পরে সংঘর্ষে রূপ নেয়। সংঘর্ষ চলাকালে নাজিম কাজি অসুস্থ হয়ে পড়লে হাসপাতালে নেওয়ার আগেই তার মৃত্যু হয়। অন্যদিকে গুরুতর আহত শিমুল কাজি কুষ্টিয়ায় নেওয়ার পথে মারা যান।
বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া তথ্যমতে, গত বছরের ৫ আগস্টের পর থেকে বর্তমান ক্ষমতাসীন দল বিএনপির কর্মীদের হামলায় অন্তত ২৫৪ জন নিহত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এর মধ্যে গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনের পরপরই ১৫ জনকে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর অন্তত ৪ জন নেতা–কর্মী রয়েছেন বলে অভিযোগ করা হচ্ছে।
এছাড়াও গণমাধমের সূত্রে জানা গেছে , ২০২৪ সালের আগস্টের পর থেকে বিএনপি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অপরাধের খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে রয়েছে ৯৫টির বেশি ধর্ষণ, ৩১৮টির বেশি চাঁদাবাজি, ১০১টির বেশি দখল, ৭৪টির বেশি চুরি বা ডাকাতি, ৫৬টির বেশি নারী নির্যাতন, ৮৫টির বেশি লুটপাটের ঘটনা
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, চলমান সহিংসতা ও অপরাধের ঘটনায় দেশের সর্বোচ্চ রাজনৈতিক নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। বিএনপির দলীয় প্রধান ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে এসব ঘটনার বিষয়ে দৃশ্যমান কোনো কঠোর পদক্ষেপ বা অবস্থান এখনো স্পষ্টভাবে সামনে আসেনি বলে সমালোচকরা মনে করছেন।
অনেকে প্রশ্ন তুলছেন, দলের নেতা–কর্মীদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকারের পক্ষ থেকে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে স্পষ্ট বার্তা বা কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় জনমনে ভয় ও আতঙ্ক বাড়ছে বলেও মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।







