ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ড নিয়ে প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে মুখ খুলেছেন মামলার অন্যতম প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ। রবিবার (২২ মার্চ) ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার বিধাননগর মহকুমার একটি বিশেষ আদালতে তোলার সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এই চাঞ্চল্যকর দাবি করেন।
আদালত প্রাঙ্গণে ফয়সাল করিম মাসুদ দাবি করেন, শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডটি ‘জামায়াত-বিএনপির একটি চাল’ হতে পারে। তিনি নিজে এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত নন বলে সাফ জানিয়ে দেন। তবে এই ঘটনার সঙ্গে জামায়াতের সুনির্দিষ্ট কে জড়িত, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “সেটা তো আমি জানি না।”
সাক্ষাৎকারের এক পর্যায়ে ফয়সাল করিম মাসুদ নিহত হাদিকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “আপনারা যে হাদি হাদি করছেন, বাংলাদেশের মানুষ যে হাদি হাদি করছে, হাদি তো একচুয়ালি একটা জামায়াতের প্রোডাক্ট, ও তো একটা জঙ্গি।” তার এই মন্তব্য নিয়ে আদালত চত্বরে উপস্থিত সংবাদকর্মীদের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
হত্যাকাণ্ডের সময় তিনি বাংলাদেশে উপস্থিত ছিলেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ফয়সাল স্বীকার করেন যে তিনি তখন দেশেই ছিলেন। তবে তিনি বারবার দাবি করতে থাকেন যে, তিনি এই হত্যার সঙ্গে কোনোভাবেই যুক্ত নন। এদিন ফয়সালের সঙ্গে মামলার আরেক প্রধান আসামি আলমগীর হোসেনকেও আদালতে তোলা হয়।
উল্লেখ্য, ১৪ দিনের পুলিশ রিমান্ড শেষে আজ এই দুই আসামিকে বিধাননগর আদালতে পাঠানো হয়। ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই এই দুই আসামি পলাতক ছিলেন এবং পরবর্তী সময়ে ভারতে ধরা পড়েন। এই মামলাটি বর্তমানে অত্যন্ত স্পর্শকাতর মোড়ে পৌঁছেছে।
