মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে যুদ্ধের ঘনঘটা আরও ঘনীভূত হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক আলটিমেটামের জবাবে এবার সরাসরি মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধে নেমেছে ইরান। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা মেহের নিউজ এজেন্সি একটি চাঞ্চল্যকর পোস্টার প্রকাশ করেছে, যার শিরোনাম দেওয়া হয়েছে— ‘বিদ্যুৎকে বিদায় বলো!’
এই পোস্টারে পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর গুরুত্বপূর্ণ সব বৈদ্যুতিক স্থাপনা ও পাওয়ার গ্রিডগুলোকে সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এটি কেবল একটি পোস্টার নয়, বরং ট্রাম্পের হুমকির বিপরীতে ইরানের একটি সুনিপুণ সামরিক বার্তা। ইরান বুঝিয়ে দিয়েছে যে, তাদের স্থাপনায় আঘাত এলে পুরো অঞ্চলের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা অন্ধকার করে দেওয়া হবে।
এর আগে ট্রাম্প ইরানকে ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দিয়ে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার নির্দেশ দেন, অন্যথায় ইরানের পারমাণবিক ও বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো গুঁড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন। সেই হুমকির কয়েক ঘণ্টার মাথায় মেহের নিউজের এই পোস্টার প্রকাশ ওয়াশিংটন এবং তার আঞ্চলিক মিত্রদের জন্য এক চরম সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ইরানের সামরিক কর্মকর্তাদের মতে, যদি যুক্তরাষ্ট্র তাদের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা চালায়, তবে পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন মালিকানাধীন এবং তাদের মিত্র দেশগুলোর বিদ্যুৎকেন্দ্র, পানি শোধন প্রকল্প এবং তথ্যপ্রযুক্তি অবকাঠামো ধ্বংস করে দেওয়া হবে। পোস্টারটির শিরোনাম ‘বিদ্যুৎকে বিদায় বলো’ মূলত সেই ধ্বংসাত্মক পরিণতিরই ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বর্তমানে এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দাম হু হু করে বাড়ছে এবং আন্তর্জাতিক মহলে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের এই ‘চোখে চোখ’ রেখে লড়াইয়ের অবস্থানে মধ্যপ্রাচ্য এখন এক ভয়াবহ সংঘাতের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে।
