মুক্তিযুদ্ধের অজানা ইতিহাস এবং স্থানীয় পর্যায়ের তথ্য সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও গবেষণায় উৎসাহ দিতে সরকার নতুন উদ্যোগ নিয়েছে। এ উদ্যোগের আওতায় বিভিন্ন পেশার ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে অনুদান দেওয়া হবে।
গবেষণার বিষয় ও পরিসরের ভিত্তিতে একজন গবেষক বা গবেষণা দলকে ৫ লাখ থেকে সর্বোচ্চ ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত অনুদান দেওয়া হবে। এই উদ্যোগে জুলাই অভ্যুত্থান নিয়েও গবেষণার সুযোগ রাখা হয়েছে।
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় গত ৪ মার্চ এ-সংক্রান্ত একটি নির্দেশিকা জারি করেছে। তিনটি ক্যাটাগরিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক, স্বীকৃত গবেষণা প্রতিষ্ঠান, একক ব্যক্তি, পিএইচডি গবেষক ও অভিজ্ঞ গবেষকেরা আবেদন করতে পারবেন।
প্রতিবছর এই অনুদান দেওয়া হবে। তবে কতজনকে দেওয়া হবে, তা এখনো নির্ধারণ হয়নি—বাজেটের ওপর ভিত্তি করে তা ঠিক করা হবে।
মন্ত্রণালয়ের উপসচিব (উন্নয়ন) আলমগীর হোসেন জানান, মুক্তিযোদ্ধাদের পাশাপাশি জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের বিষয়েও কাজ করা হয়। তাই এই গবেষণায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
গবেষণার ক্ষেত্র
নির্দেশিকা অনুযায়ী নিম্নলিখিত বিষয়গুলোতে গবেষণা করা যাবে:
মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও সংগ্রাম
গণমানুষের অংশগ্রহণ
বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদদের তালিকা যাচাই
গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ ও মানবাধিকার লঙ্ঘন
শহীদ বুদ্ধিজীবী ও বধ্যভূমি
আঞ্চলিক যুদ্ধের ঘটনা ও দলিলপত্র
মুক্তিযোদ্ধাদের অবদান
শরণার্থী জীবন ও আন্তর্জাতিক সমর্থন
এ ছাড়া জুলাই অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট, প্রত্যাশা, শহীদ ও আহতদের পুনর্বাসন, স্মৃতি সংরক্ষণ এবং বীরত্বগাথা নিয়েও গবেষণা করা যাবে।
অনুদানের শ্রেণিবিন্যাস
ক শ্রেণি (দলীয়/প্রাতিষ্ঠানিক গবেষণা): ১০–২৫ লাখ টাকা (সময়: ১ বছর)
খ শ্রেণি (একক গবেষণা): ৫–১০ লাখ টাকা (সময়: ৯ মাস)
গ শ্রেণি (একক গবেষণা): ৫ লাখ টাকা (সময়: ৬ মাস)
প্রয়োজনে মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনে গবেষণার সময় একবার বাড়ানো যাবে।
আবেদনকারীর যোগ্যতা
সরকারি কর্মকর্তা (বর্তমান বা অবসরপ্রাপ্ত, ন্যূনতম নবম গ্রেড)
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক
গবেষণা প্রতিষ্ঠানের গবেষক
এমফিল ও পিএইচডি ডিগ্রিধারী
স্বীকৃত গবেষণা প্রতিষ্ঠান
খ ও গ শ্রেণিতে যেকোনো ব্যক্তি এককভাবে আবেদন করতে পারবেন। তবে অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের অধীনে গবেষণায় নিয়োজিত থাকলে বা শাস্তিভোগরত হলে আবেদন করা যাবে না।
আবেদনের সময়সূচি
প্রস্তাব আহ্বান: প্রতি বছর ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে
জমা দেওয়ার শেষ সময়: ৩১ অক্টোবর
চূড়ান্ত নির্বাচন: ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে
বাস্তবায়ন ও তদারকি
এই গবেষণার জন্য একটি তহবিল গঠন করা হবে, যা এডিপি, রাজস্ব বাজেট বা উন্নয়ন সহযোগীদের অর্থায়নে পরিচালিত হবে।
মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন)কে আহ্বায়ক করে ১০ সদস্যের একটি কমিটি গবেষণা কার্যক্রম তদারকি করবে। প্রস্তাব যাচাই-বাছাই শেষে চূড়ান্ত অনুমোদন দেবেন মন্ত্রণালয়ের সচিব।
নির্বাচিত গবেষকদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করে প্রতিবেদন জমা দিতে হবে। গবেষণার অগ্রগতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হবে এবং ফলাফল বই, প্রতিবেদন বা অন্যান্য মাধ্যমে প্রকাশ করে সংরক্ষণ করা হবে।







