সরকারি বরাদ্দের চালের অর্থ আত্মসাৎ ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কুষ্টিয়া জেলা ও কুমারখালী উপজেলা শাখার দুই শীর্ষ নেতাকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার (২০ মার্চ) রাতে এনসিপির জেলা শাখার প্রধান সমন্বয়কারী জান্নাতুল ফেরদৌস টনি স্বাক্ষরিত এক পত্রে এই আদেশ দেওয়া হয়।
শোকজ প্রাপ্ত দুই নেতা হলেন— এনসিপি কুষ্টিয়া জেলা শাখার জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সমন্বয়কারী ইবাদত আলী এবং কুমারখালী উপজেলা শাখার প্রধান সমন্বয়কারী হেলাল উদ্দিন। তাঁদের বিরুদ্ধে সরকারি বরাদ্দের চালের অর্থ আত্মসাৎ এবং নির্বাচনী সময়ে দলীয় নীতিমালা লঙ্ঘন করে অন্য রাজনৈতিক দলের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা গ্রহণের অভিযোগ আনা হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে কুমারখালী উপজেলা প্রধান সমন্বয়কারী হেলাল উদ্দিন জানান, তিনি দুই টন চাল বরাদ্দ পেয়েছিলেন যা ৭১ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়। এর মধ্যে ২৯ হাজার টাকার শাড়ি-লুঙ্গি কেনা হয়েছে এবং ইফতার পার্টির জন্য ৫ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে। অবশিষ্ট ৩৭ হাজার টাকা জেলা ও উপজেলার অন্যান্য নেতারা ভাগ করে নিয়েছেন বলে তিনি দাবি করেন।
হেলাল উদ্দিন আরও অভিযোগ করেন যে, দলের কিছু অসাধু নেতা ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিল করতে না পেরে তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছেন। তিনি কোনো অনিয়ম করেননি এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই শোকজের উপযুক্ত জবাব দেবেন বলে জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, কুষ্টিয়া জেলা শাখার প্রধান সমন্বয়কারী জান্নাতুল ফেরদৌস টনি জানান, বিভিন্ন মাধ্যমে অনিয়মের অভিযোগ আসায় স্বচ্ছতার খাতিরে তাঁদের শোকজ করা হয়েছে। ৩৭ হাজার টাকা বুঝে পাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, টাকাটি তাঁর উপস্থিতিতে কুমারখালীর নেতাকর্মীরা বুঝে নিয়েছেন। আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে এই দুই নেতাকে লিখিত জবাব দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
