জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষাকে প্রাধান্য দিয়ে প্রয়োজনে সংবিধান পরিবর্তনের কথা জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় হুইপ ও জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সংসদ ভবনে বিশেষ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, “সংবিধান মানুষের জন্য, সংবিধানের জন্য মানুষ নয়।”
রফিকুল ইসলাম খান জোর দিয়ে বলেন, জুলাই চেতনাকে সমুন্নত রাখতে যদি সংবিধানের কোনো ধারা পরিবর্তনের প্রয়োজন হয়, তবে তা অবশ্যই করা হবে। তার মতে, জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে সংবিধানের পরিবর্তনের বিষয়ে কারো দ্বিমত থাকার কথা নয়। তিনি আরও যোগ করেন, “সংবিধান তো কোরআন বা ওহি নয়; এটি সব সময় পরিবর্তন হয়েছে এবং দেশের প্রয়োজনে আবারও হতে পারে।”
এদিন বিশেষ কমিটির প্রথম বৈঠকে ১৩৩টি অধ্যাদেশ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। রফিকুল ইসলাম খান জানান যে, ২৭টি অধ্যাদেশ নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে, যার মধ্যে চাকরির বয়সসীমা ৩২ বছর করার অধ্যাদেশ সুপারিশের বিষয়ে কমিটি একমত হয়েছে। তবে গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার (সংশোধনী) অধ্যাদেশ-২০২৬ এবং পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ-২০২৫ নিয়ে আরও বিস্তারিত আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে বলে তিনি জানান।
জামায়াতের এই নেতা আরও বলেন, তাদের দল শুধু বিরোধিতার খাতিরে বিরোধিতা করবে না। জনগণের স্বার্থে যেকোনো বিষয়ে তারা সরকারকে সমর্থন ও সহযোগিতা করবে। তবে দেশ, জনগণ বা ইসলামের বিরুদ্ধে যায় এমন যেকোনো বিষয়ে তারা শক্ত অবস্থান নেবে। জুলাই যোদ্ধাদের সুরক্ষার বিষয়ে প্রস্তাবিত অধ্যাদেশগুলোতেও কমিটি ঐকমত্য পোষণ করেছে।
সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের সমালোচনা করে রফিকুল ইসলাম খান বলেন, বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের সাধারণ সম্পাদক সংবিধানের দোহাই দিয়ে এক চুলও না নড়ার কথা বলে স্বৈরাচারী কায়দায় দেশ চালিয়েছেন। কিন্তু বর্তমান সংসদ ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি জুলাই বিপ্লবেরই ফসল। তাই এই বিপ্লবের চেতনা রক্ষা করাই এখন মূল অগ্রাধিকার।
বৈঠকে অংশ নেওয়া অন্যান্য সদস্যরা জানান, অধিকাংশ অধ্যাদেশই সুপারিশ আকারে সংসদে উত্থাপনের বিষয়ে কমিটি একমত হয়েছে। সংবিধান সংস্কার বা বড় ধরনের নীতিগত পরিবর্তনের বিষয়ে পরবর্তী বৈঠকগুলোতে আরও বিস্তারিত আলোচনা হতে পারে।







