পাবনার সুজানগর উপজেলায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিএনপি সমর্থিত দুই পক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও গোলাগুলিতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ জনে। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) বেলা তিনটার দিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গুলিবিদ্ধ মুনছুর খাঁ (৬০) মারা যান।
নিহত মুনছুর খাঁ সুজানগর উপজেলার ভিটবিলা গ্রামের মৃত জয়নাল শেখের ছেলে। এর আগে সোমবার সকালে সংঘর্ষ চলাকালে ঘটনাস্থলেই গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান চায়না খাতুন (৪০) নামের এক গৃহবধূ। নিহত দুজনই স্থানীয় বিএনপি কর্মী ইসলাম প্রামাণিক পক্ষের সমর্থক বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এলাকার আধিপত্য নিয়ে হাটখালী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি রাফিউল ইসলাম রাজা গ্রুপের সাথে মানিকহাট ইউনিয়নের ভিটবিলা গ্রামের বিএনপি কর্মী ইসলাম প্রামাণিক গ্রুপের দীর্ঘদিনের বিরোধ চলছিল। রবিবার দিবাগত রাতে দুই পক্ষের যুবকদের মধ্যে মারামারিকে কেন্দ্র করে এই উত্তেজনার সূত্রপাত হয়।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা জানান, সোমবার সকালে ইসলাম গ্রুপের লোকজন লাঠিসোঁটা নিয়ে পাহারায় বসে এবং প্রতিপক্ষ রাজা গ্রুপের লোকদের বাজারে যেতে বাধা দেয়। এর জের ধরে রাজা গ্রুপের সমর্থকরা দেশীয় অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হামলা চালালে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় ভিটবিলা পশ্চিমপাড়া গ্রাম। দফায় দফায় চলে গুলিবর্ষণ ও বাড়িঘর ভাঙচুর।
সুজানগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খঈম উদ্দিন নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১২ জনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। নিহত গৃহবধূর মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং আজ মারা যাওয়া মুনছুর খাঁর ময়নাতদন্ত রাজশাহীতে সম্পন্ন হবে।
এলাকায় বর্তমানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। বিকেল পর্যন্ত কোনো পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ না পেলেও অভিযোগ পাওয়ামাত্রই মামলা রুজু করে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
