নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার যাত্রামুড়া এলাকায় এক যুবদল নেতার নেতৃত্বে বসতবাড়িতে ঢুকে স্বামীকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে স্ত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের লোমহর্ষক অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (২৩ মার্চ) ভোরে এক ভাড়া বাসায় এই ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী রূপগঞ্জ থানায় অভিযুক্ত যুবদল নেতা আফজাল খানসহ (৩৮) তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগে জানা যায়, ভোর আনুমানিক সাড়ে ৪টার দিকে গৃহবধূর স্বামী বাথরুমে গেলে আগে থেকে ওত পেতে থাকা আফজাল ও তার সহযোগীরা ঘরে প্রবেশ করে। তারা গৃহবধূর গলায় ছুরি ধরে জিম্মি করে ফেলে। স্বামী ঘরে ফিরলে তাকে এবং তাদের তিন বছর বয়সী সন্তানকেও হত্যার হুমকি দিয়ে চুপ থাকতে বাধ্য করা হয়।
ভুক্তভোগী স্বামী জানান, প্রধান অভিযুক্ত আফজাল খান নিজেকে স্থানীয় প্রভাবশালী যুবদল নেতা পরিচয় দিয়ে ত্রাসের সৃষ্টি করেন। দুর্বৃত্তরা তার স্ত্রীর গলায় ছুরি ধরার পাশাপাশি তার নিজের গলাতেও অস্ত্র ঠেকিয়ে রাখে। সামান্য প্রতিবাদ করলেই পুরো পরিবারকে খতম করে দেওয়ার ভয় দেখানো হয়। ওই অবস্থায় নিজের ও সন্তানের জীবন বাঁচাতে তিনি নির্বাক হয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে বাধ্য হন।
লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, যুবদল নেতা আফজাল খান ও তার এক সহযোগী অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে ওই গৃহবধূকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। এ সময় তাদের অন্য সহযোগীরা স্বামী ও শিশুর দিকে অস্ত্র তাক করে রাখে যাতে কেউ বাধা দিতে না পারে। ধর্ষণের পর দুর্বৃত্তরা তাদের একটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয় এবং বিষয়টি জানাজানি করলে প্রাণনাশের হুমকি দেয়।
ঘটনার পর অভিযুক্তরা স্থানীয় এক প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতার নাম ব্যবহার করে ভুক্তভোগী পরিবারকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখায়। ভুক্তভোগী নারী জানান, চরম আতঙ্ক এবং সামাজিক ও পারিবারিক চাপের কারণে অভিযোগ করতে কিছুটা দেরি হয়েছে। বর্তমানে তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সবজেল হোসেন জানিয়েছেন, যুবদল নেতার বিরুদ্ধে আনা এই গুরুতর অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম অভিযান শুরু করেছে। অপরাধী যে দলেরই হোক না কেন, তাকে আইনের আওতায় আনা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছে পুলিশ।







