শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নতুন ও চাঞ্চল্যকর মোড় এসেছে। এই হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীর হোসেনকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিধাননগর আদালত দেশটির জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা (এনআইএ)-র হেফাজতে পাঠিয়েছেন। তবে এই মামলাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে রাজনৈতিক ও গোয়েন্দা অঙ্গনে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক।
সাবেক সেনা কর্মকর্তা মুস্তাফিজুর রহমান এক ফেসবুক পোস্টে দাবি করেছেন, হাদিকে হত্যার জন্য ৫০ লক্ষ টাকায় খুনি ফয়সালকে ভাড়া করেছিলেন বিএনপি নেতা মির্জা আব্বাস। এই তথ্যটি প্রকাশ্যে আসার পর রাজনৈতিক মহলে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। তবে অনেক বিশ্লেষক এই দাবির নেপথ্যের সমীকরণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, মির্জা আব্বাসের মতো একজন ধুরন্ধর রাজনীতিক যদি এই পরিকল্পনায় জড়িত থাকেন, তবে সরাসরি একজন খুনির কাছে নিজের পরিচয় প্রকাশ করাটা হবে এক চরম ‘অব্যবস্থাপনা’। সাধারণত এ ধরনের হাই-প্রোফাইল মিশনে মাস্টারমাইন্ডের পরিচয় তৃণমূল পর্যায়ের অপরাধীদের জানার কথা নয়। ফলে ফয়সালের জবানবন্দি কতটুকু সত্য, তা নিয়ে সন্দেহের অবকাশ রয়েছে।
অন্যদিকে, কর্নেল (অব.) হাসিনুর রহমান দাবি করেছেন, খুনি ফয়সাল চুক্তির ৫০ লক্ষ টাকার মধ্যে ১০ লক্ষ টাকা অগ্রিম নিয়েছিলেন এবং বাকি টাকা মির্জা আব্বাসের দেওয়ার কথা ছিল। তিনি আরও ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, এই ঘটনার গভীরে আরও অনেক কিছু রয়েছে যা পর্যায়ক্রমে বেরিয়ে আসবে। তার মতে, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে কোনো শক্তিশালী গোয়েন্দা বাহিনীর যোগসূত্র থাকতে পারে।
মুস্তাফিজুর রহমান তার পর্যবেক্ষণে আরও উল্লেখ করেছেন যে, পেশাদার খুনিরা অনেক সময় আসল মাস্টারমাইন্ড বা কোনো গোয়েন্দা সংস্থাকে আড়াল করার জন্য ভুল তথ্য দিয়ে থাকে। তিনি মনে করেন, রাজনীতির মাঠে যখন কেউ গুরুত্ব হারায়, তখন তাকে ‘বলির পাঁঠা’ বা স্কেপগোট বানানো একটি পুরনো কৌশল। মির্জা আব্বাসকে এখন সেই লক্ষ্যেই ফাঁসানো হচ্ছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
ভারত ও বাংলাদেশের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মধ্যে এই মামলা নিয়ে সমন্বয় চললেও পর্দার আড়ালে এক ধরনের রহস্যময় পরিস্থিতি বিরাজ করছে। বিশেষ করে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ (RAW)-এর জড়িত থাকার বিষয়েও কিছু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারী ও বিশ্লেষক সন্দেহ প্রকাশ করছেন। তবে আসল সত্য উদ্ঘাটনে এনআইএ-র জিজ্ঞাসাবাদ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
