ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত থাকা অবস্থায় কোনো ধরনের আলোচনায় বসতে সরাসরি অস্বীকৃতি জানিয়েছে হিজবুল্লাহ। সংগঠনটির প্রধান নাইম কাসেম এক টেলিভিশন ভাষণে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, যুদ্ধ চলাকালীন আলোচনায় বসা মানেই হলো শত্রুর শর্তের কাছে নতি স্বীকার করা বা আত্মসমর্পণ করা।
নাইম কাসেম তার বক্তব্যে কঠোর হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, হিজবুল্লাহ বর্তমানে কোনো সীমা ছাড়াই লড়াই চালিয়ে যাবে। তিনি মনে করেন, ইসরায়েলের হামলার মুখে সংলাপের প্রস্তাব মূলত চাপিয়ে দেওয়া শর্ত মেনে নেওয়ার একটি কৌশল মাত্র। তাই বর্তমান পরিস্থিতিতে আলোচনার কোনো প্রশ্নই আসে না।

একই সাথে হিজবুল্লাহ প্রধান লেবাননের সাধারণ মানুষকে ইসরায়েলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি লেবানন সরকারের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন যেন হিজবুল্লাহর সামরিক কর্মকাণ্ডের ওপর থাকা সব ধরনের বিধিনিষেধ তুলে নেওয়া হয়, যাতে তারা আরও জোরালোভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে।
এদিকে, হিজবুল্লাহর ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় উত্তর ইসরায়েলের কারমিয়েল শহরে অন্তত দুজন ইসরায়েলি আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ইসরায়েলি জরুরি সেবা সংস্থা জানিয়েছে, রকেট বিস্ফোরণ ও শার্পনেলের আঘাতেই তারা আহত হন। হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকেও কারমিয়েল লক্ষ্য করে রকেট ছোড়ার দাবি করা হয়েছে।
অন্যদিকে, লেবাননের আকাশসীমায় একটি শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র বিস্ফোরণের ঘটনা নিয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছে দেশটির সেনাবাহিনী। তারা জানিয়েছে, সোমবার আকাশে বিস্ফোরিত হওয়া ওই ক্ষেপণাস্ত্রটি ছিল ইরানের তৈরি ‘কাদের-১১০’ ব্যালিস্টিক মিসাইল। আকাশসীমার অনেক উঁচুতে এটি বিস্ফোরিত হওয়ায় ধারণা করা হচ্ছে, এর লক্ষ্যবস্তু লেবাননের বাইরে অন্য কোথাও ছিল। যান্ত্রিক ত্রুটি বা অন্য কোনো প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতেই এটি মাঝপথে ধ্বংস হয়েছে বলে সেনাবাহিনী মনে করছে।







