মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে পাকিস্তানের মাধ্যমে পাঠানো ১৫ দফার এক বিশাল শান্তি প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। এই প্রস্তাবকে ‘অবাস্তব’ ও ‘প্রতারণামূলক’ হিসেবে অভিহিত করেছে খামেনির প্রশাসন। ট্রাম্পের প্রস্তাবের মধ্যে প্রধান শর্ত ছিল ইরানকে তাদের বিদ্যমান পারমাণবিক সক্ষমতা ও ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্রগুলো সম্পূর্ণ ধ্বংস করতে হবে। বিনিময়ে ইরানের ওপর থেকে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচিতে সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল।
তবে ট্রাম্পের এই প্রস্তাব নাকচ করে দিয়ে ইরান নিজস্ব কিছু কঠোর পাল্টা দাবি পেশ করেছে। তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হরমুজ প্রণালির ওপর তাদের পূর্ণ কর্তৃত্ব দিতে হবে, যাতে তারা সুয়েজ খালের মতো সেখান দিয়ে চলাচলকারী জাহাজ থেকে ফি আদায় করতে পারে। এছাড়া আইআরজিসি স্পষ্ট ঘোষণা করেছে যে, উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে সব মার্কিন ঘাঁটি প্রত্যাহার এবং পূর্ববর্তী হামলার পূর্ণ ক্ষতিপূরণ না দেওয়া পর্যন্ত তারা তাদের অবস্থান থেকে সরবে না।
আঞ্চলিক নিরাপত্তার বিষয়ে ইরানি আইনপ্রণেতারা জানিয়েছেন, যেকোনো চুক্তির আগে লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরাইলি সামরিক অভিযান পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে। পাশাপাশি ইরান তাদের নিজস্ব ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি বজায় রাখার বিষয়ে কোনো ধরনের আপস করবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে। তেহরান থেকে আরও বলা হয়েছে যে, তারা নিজস্ব শর্ত পূরণ হলেই কেবল যুদ্ধ সমাপ্তির বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের এই পাল্টা দাবিগুলোকে মার্কিন কর্মকর্তারা ‘অবাস্তব’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে সরাসরি কোনো আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ না থাকায় মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমেই এই জটিল কূটনৈতিক টানাপোড়েন চলছে। এর আগে ট্রাম্প আলোচনার অগ্রগতির দাবি করলেও ইরান শুরু থেকেই তা নাকচ করে দিয়ে আসছিল।
