লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে সরকারি খাল খনন কর্মসূচির আওতায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের জলাশয় ভরাট করে দোকান নির্মাণের তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে প্রাণনাশের হুমকির শিকার হয়েছেন দৈনিক আমার দেশ-এর উপজেলা প্রতিনিধি আমজাদ হোসেন আমু। স্থানীয় বিএনপি নেতা সেকান্তার আলম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই সাংবাদিককে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য এবং হত্যার হুমকি দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) রাতে ভুক্তভোগী সাংবাদিক আমজাদ হোসেন কমলনগর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।
ঘটনার সূত্রপাত হয় যখন সাংবাদিক আমজাদ উপজেলার করইতোলা বাজারে জলাশয় ভরাট সংক্রান্ত একটি ভিডিও প্রতিবেদন তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে পোস্ট করেন। ভিডিওর ক্যাপশনে তিনি বর্তমান সরকারের খাল খনন কর্মসূচির প্রশংসা করার পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে খাল দখলের ফলে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেন। প্রতিবেদনটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে সেকান্তার আলম তার ফেসবুক আইডি থেকে ওই সাংবাদিককে গালিগালাজ করেন এবং তাকে ‘শনি ঘটাবে’ বলে সরাসরি হুমকি দেন।
অভিযুক্ত সেকান্তার আলম চর লরেঞ্চ ইউনিয়নের বাসিন্দা এবং স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত বলে পরিচিত। তবে হুমকির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি দাবি করেন, তার ফেসবুক আইডিটি হ্যাক হয়েছিল। একই সাথে তিনি সাংবাদিকের বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা করার হুমকি দিলেও কী বিষয়ে মামলা করবেন, তা স্পষ্ট করেননি।
এদিকে কমলনগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি নুরুল হুদা চৌধুরী জানিয়েছেন, সেকান্তার আলম বর্তমানে দলের কোনো পদ-পদবিতে নেই এবং কয়েক বছর আগেই তিনি দল থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। সাংবাদিকের সাথে এমন আচরণের নিন্দা জানিয়ে তিনি প্রশাসনকে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করেছেন। একই সাথে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বাজারের সকল অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে বলেও তিনি জানান।
কমলনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদুল আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, সাংবাদিক আমজাদ হোসেন আমুর করা জিডিটি গুরুত্বের সাথে গ্রহণ করা হয়েছে। ফেসবুকে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য এবং প্রাণনাশের হুমকির বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
