নিম্ন-উচ্চতার সামরিক হুমকি মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের পর্যাপ্ত বিনিয়োগের অভাবকে ইরান অত্যন্ত সফলভাবে কাজে লাগিয়েছে বলে মনে করছেন সামরিক বিশেষজ্ঞরা। মঙ্গলবার ‘মিডল ইস্ট ইনস্টিটিউট’ আয়োজিত এক ভার্চ্যুয়াল প্যানেল আলোচনায় বিশেষজ্ঞরা জানান, উচ্চ আকাশসীমায় প্রথাগত লড়াইয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল সফল হলেও নিচু দিয়ে উড়ে আসা ড্রোন ঠেকাতে তারা রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের গবেষণাপ্রতিষ্ঠান স্টিমসন সেন্টারের সিনিয়র ফেলো কেলি গ্রিকো বলেন, ইরান খুব ভালো করেই জানে তারা সরাসরি আকাশযুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরাইলের সমকক্ষ নয়। তাই তারা প্রথাগত যুদ্ধের পথে না হেঁটে ‘বিঘ্ন সৃষ্টিকারী যুদ্ধ’ বা ‘ওয়ার অব ডিসরাপশন’ কৌশল বেছে নিয়েছে। বিশেষ করে ইরানের তৈরি শাহেদ ড্রোনগুলো নিচু আকাশসীমা ব্যবহার করে হামলা চালাচ্ছে, যা শনাক্ত করা বর্তমান প্রযুক্তিতে বেশ ব্যয়বহুল ও কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
গ্রিকোর মতে, উপসাগরীয় দেশগুলো মূলত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকানোর প্রযুক্তিতে বিপুল বিনিয়োগ করেছিল। কিন্তু নিচু দিয়ে উড়ে আসা ড্রোন শনাক্ত করার জন্য যে ধরনের বিশেষ সেন্সর ও রাডার প্রয়োজন, সেদিকে তারা নজর দেয়নি। ইরান এই দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে উচ্চমাত্রার মোবাইল ব্যবস্থার মাধ্যমে নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের আকাশ আধিপত্য রুখে দিচ্ছে।
তবে বিশেষজ্ঞদের এই পর্যালোচনার কয়েক ঘণ্টা পরই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর ইরান তাদের সব সামরিক সক্ষমতা হারিয়েছে। ট্রাম্পের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী এখন তেহরানের আকাশে অবাধে বিচরণ করছে। একই সুরে দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এই পরিস্থিতিকে ‘ইতিহাসে নাম লেখানোর মতো বিজয়’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
কেলি গ্রিকো আরও উল্লেখ করেন, ইরানের শাহেদ ড্রোনগুলো নির্মাণে খরচ অত্যন্ত কম হলেও সেগুলো ধ্বংস করতে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের লাখ লাখ ডলার খরচ করতে হচ্ছে। এই অসম অর্থনৈতিক ও সামরিক চাপ মধ্যপ্রাচ্যে ওয়াশিংটনের দীর্ঘমেয়াদী কৌশলকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। ফলে নিচু উচ্চতার হুমকি মোকাবিলায় নতুন করে ভাবার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।
