ফেনীতে মাটি ব্যবসাকে কেন্দ্র করে দুই ছাত্রদল নেতার মধ্যে চাঁদা দাবির একটি অডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘটনার জেরে ফেনী সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি নোমানুল হক নোমানকে তার সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। মঙ্গলবার ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থার কথা জানানো হয়।
ভাইরাল হওয়া ৪ মিনিট ৫ সেকেন্ডের ওই অডিও ক্লিপে শোনা যায়, নোমানুল হক নোমান নাসির মেমোরিয়াল কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইফতেখার তাহাদ ইফতুর কাছে মাটি পরিবহনের জন্য ১৬ হাজার টাকা দাবি করছেন। সদর উপজেলার পাঁচগাছিয়া ইউনিয়নের ইলাশপুর সড়ক দিয়ে মাটি নিতে হলে এই অর্থ দিতে হবে বলে অডিওতে উল্লেখ করা হয়। নোমানকে সেখানে বলতে শোনা যায়, এটি ‘সিনিয়রদের সিদ্ধান্ত’ এবং এই টাকা না দিলে গাড়ি চলাচলে বাধা দেওয়া হতে পারে।
জবাবে ইফতু ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, নিজ দলের লোক হয়ে টাকা দিয়ে ব্যবসা করা লজ্জাজনক। তিনি প্রশ্ন তোলেন, কেন তাকে চাঁদা দিয়ে ব্যবসা করতে হবে। উত্তরে নোমান জানান, এই টাকা স্থানীয় কর্মীদের ‘চা-নাশতার’ জন্য নেওয়া হচ্ছে এবং সবাই এই নিয়ম মেনেই কাজ করছে। অডিওর এক পর্যায়ে ইফতু আগের বারও টাকা দেওয়ার অভিযোগ করলে নোমান দাবি করেন, সেই টাকা তিনি যথাযথ জায়গায় পৌঁছে দিয়েছেন।
অবশ্য বহিষ্কৃত নেতা নোমানুল হক নোমান এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, ঘটনাটি প্রায় এক মাস আগের এবং তিনি কোনো চাঁদা দাবি করেননি। বরং স্থানীয় কিছু ছেলেপেলে মাটির গাড়ি আটকালে তিনি বিষয়টি সমাধান করে দিয়েছিলেন এবং ইফতু নিজেই তাকে টাকা দিতে চেয়েছিলেন। অন্যদিকে ইফতু সরাসরি চাঁদা দাবির অভিযোগ তুলে এর সুষ্ঠু সাংগঠনিক ও আইনি বিচার দাবি করেছেন।
ফেনী জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মোরশেদ আলম মিলন কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। নোমানকে বহিষ্কারের পাশাপাশি ফেনী সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মাহমুদুল হাসানকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষায় এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।







