বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী তেলবাহী জাহাজগুলোর ওপর ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) কঠোর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। প্রখ্যাত শিপিং নিউজ পোর্টাল ‘লয়েডস লিস্ট’-এর এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৩ মার্চ থেকে এই প্রণালি অতিক্রমকারী জাহাজগুলো আইআরজিসি-র একটি বিশেষ ‘টোল বুথ’ ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে যাতায়াত করছে। প্রতিবেদনটিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, অন্তত ২৬টি জাহাজ এখন পর্যন্ত ইরানের প্রাক-অনুমোদিত রুট এবং কঠোর যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে।
লয়েডস লিস্টের তথ্যমতে, হরমুজ প্রণালিতে এখন একটি অলিখিত ‘টোল বুথ শাসন’ ব্যবস্থা চালু হয়েছে। যদিও সব জাহাজ সরাসরি অর্থ প্রদান করছে না, তবে অন্তত দুটি জাহাজের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট ফি দেওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এই লেনদেনের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো, অর্থ পরিশোধের ক্ষেত্রে মার্কিন ডলারের পরিবর্তে চীনা মুদ্রা ‘ইউয়ান’ ব্যবহার করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ডলারের আধিপত্য কমানোর কৌশল হিসেবে বিশেষজ্ঞরা এই পদক্ষেপকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন।
চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে ইরান ঘোষণা দিয়েছিল যে, তাদের ‘শত্রু’ রাষ্ট্রগুলো বাদে বাকি সবার জন্য হরমুজ প্রণালি খোলা থাকবে। তবে বর্তমানে কার্যকর হওয়া এই টোল ব্যবস্থা এবং কঠোর নজরদারি মূলত এই কৌশলগত জলপথের ওপর তেহরানের একক ও সার্বভৌম নিয়ন্ত্রণকেই বিশ্বদরবারে জাহির করছে। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে ইরান তার জলসীমায় চলাচলকারী আন্তর্জাতিক জাহাজগুলোর ওপর প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক কর্তৃত্ব স্থাপন করেছে।
জ্বালানি তেলের বিশ্ববাজার যখন চরম অস্থিতিশীল, তখন হরমুজ প্রণালিতে ইরানের এই কড়াকড়ি এবং ডলার বর্জন করে ইউয়ানে লেনদেন আন্তর্জাতিক মহলে নতুন উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এর ফলে বৈশ্বিক তেল সরবরাহে যেমন প্রভাব পড়তে পারে, তেমনি আন্তর্জাতিক মুদ্রা ব্যবস্থায় ডলারের একচেটিয়া প্রভাবও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। সার্বিকভাবে এই পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে এক নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।







