যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানে কোনো ধরনের স্থল অভিযান শুরু করে, তবে তা মোকাবিলায় ১০ লাখেরও বেশি যোদ্ধা মোতায়েন করার প্রস্তুতি নিয়েছে তেহরান। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) একটি সূত্রের বরাত দিয়ে দেশটির আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সি এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানিয়েছে। পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই ইরানের পক্ষ থেকে এই বিশাল জনশক্তি ব্যবহারের হুঁশিয়ারি এল।
সংবাদ সংস্থাটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান তাদের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় যেকোনো পর্যায়ের ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত। সম্ভাব্য মার্কিন আক্রমণ প্রতিহত করতে তারা নিয়মিত বাহিনীর পাশাপাশি বিশাল সংখ্যক স্বেচ্ছাসেবী ও রিজার্ভ যোদ্ধাদেরও রণক্ষেত্রে নামানোর পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছে। কৌশলগত এই অবস্থান মূলত ওয়াশিংটনকে একটি শক্তিশালী বার্তা দেওয়ার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছেন সামরিক বিশ্লেষকরা।
অন্যদিকে, পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান রশি টানাটানির মধ্যে ইরান তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে জানানো হয়েছে যে, তেহরান তাদের পারমাণবিক কার্যক্রমের ওপর স্থায়ী কোনো নিষেধাজ্ঞা বা প্রতিশ্রুতি দিতে রাজি নয়। এটি দীর্ঘমেয়াদী কোনো চুক্তির পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, ইরান তাদের জ্বালানি ও গবেষণার প্রয়োজনে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ চালিয়ে যেতে বদ্ধপরিকর। ওয়াশিংটন এই কার্যক্রমকে পরমাণু অস্ত্র তৈরির প্রচেষ্টা হিসেবে দেখলেও তেহরান তা বরাবরই অস্বীকার করে আসছে। স্থায়ী প্রতিশ্রুতি দিতে ইরানের এই অনমনীয় অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে কূটনৈতিক সমাধানের পথকে আরও জটিল করে তুলেছে।
সামগ্রিকভাবে, বিশাল সৈন্য মোতায়েনের হুমকি এবং পারমাণবিক ইস্যুতে পিছু না হটার ঘোষণা ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বিদ্যমান উত্তেজনাকে এক নতুন মাত্রায় নিয়ে গেছে। একদিকে সামরিক প্রস্তুতির মহড়া এবং অন্যদিকে পরমাণু সক্ষমতা ধরে রাখার জেদ—উভয় দেশকেই এক সম্ভাব্য সংঘাতের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।
