ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিকে হত্যার এক ভয়াবহ ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে দেওয়ার দাবি করেছে পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা ইন্টার-সার্ভিসেস ইন্টেলিজেন্স (আইএসআই)। ইসরাইলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ এই হামলার পরিকল্পনা করেছিল বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সূত্রে জানা গেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক তৎপরতা ও কৌশলগত আলোচনার মাধ্যমে পাকিস্তান এই বড় ধরনের রক্তপাত এড়াতে সক্ষম হয়।
আব্বাস আরাগচিকে রক্ষায় পাকিস্তানের এই কূটনৈতিক মধ্যস্থতা ও হস্তক্ষেপে ইসরাইল ক্ষুব্ধ হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই ঘটনার কিছুক্ষণ পরেই তেহরানে অবস্থিত পাকিস্তানি দূতাবাসের অত্যন্ত সন্নিকটে বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরাইলি বিমান বাহিনী। দূতাবাসের একদম কাছাকাছি এই শক্তিশালী বোমা বর্ষণের ঘটনায় পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
দূতাবাসের ওপর সরাসরি হামলা না হলেও এত কাছে বোমা পড়ার বিষয়টিকে পাকিস্তানের জন্য একটি কঠোর সতর্কবার্তা হিসেবে দেখছেন সামরিক বিশ্লেষকরা। ইরানের মাটিতে বিদেশি দূতাবাসের নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে ইসরাইলের এই দুঃসাহসিক পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনাকে এক নতুন ও বিপজ্জনক মোড়ে ঠেলে দিয়েছে।
পাকিস্তানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা শুধুমাত্র কূটনৈতিক শিষ্টাচার ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতেই এই পদক্ষেপ নিয়েছিল। তবে ইসরাইলি বিমান বাহিনীর এই পাল্টাপাল্টি হামলার পর ইসলামাবাদ ও তেল আবিবের মধ্যে নতুন করে স্নায়ুযুদ্ধ শুরু হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। তেহরানের আকাশসীমায় এখনো ইসরাইলি যুদ্ধবিমানের আনাগোনা লক্ষ্য করা গেছে।
এই ঘটনার পর ইরান ও পাকিস্তান উভয়েই তাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে। বিশেষ করে কূটনৈতিক এলাকাগুলোতে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক মহলে এই হামলা এবং এর পেছনের গোয়েন্দা তৎপরতা নিয়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে, যা বৈশ্বিক রাজনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।






