ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য “চূড়ান্ত আঘাত” হানার লক্ষ্যে পেন্টাগন বিভিন্ন সামরিক বিকল্প ও পরিকল্পনা প্রস্তুত করছে বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস (Axios)। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের এই পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে ইরানের কৌশলগত স্থাপনাগুলোতে বড় পরিসরের বিমান হামলা এবং প্রয়োজনে বিশেষ স্থল অভিযান। মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের এই ধরনের সামরিক প্রস্তুতির খবর সামনে এল।
পেন্টাগনের আলোচনায় থাকা লক্ষ্যগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপ দখল করা। এছাড়া হরমুজ প্রণালীকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ লারক দ্বীপ এবং প্রণালীর প্রবেশমুখে অবস্থিত আবু মুসাসহ অন্যান্য দ্বীপগুলো কবজা করার পরিকল্পনাও করা হচ্ছে। এসব পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য হলো ইরানের জ্বালানি রপ্তানি ও সমুদ্রপথের ওপর দেশটির একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ খর্ব করা।
সামরিক বিকল্পগুলোর মধ্যে আরও রয়েছে আন্তর্জাতিক জলসীমায় ইরানি তেলবাহী ট্যাংকার আটক বা জব্দ করা। পাশাপাশি ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা এবং গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামোগুলোতে বড় ধরনের বিমান হামলা চালানোর ছক আঁকছে পেন্টাগন। চরম পরিস্থিতিতে ইরানের অভ্যন্তরে বিশেষ স্থল বাহিনী পাঠিয়ে পারমাণবিক উপকরণগুলো নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার মতো দুঃসাহসিক পরিকল্পনাও আলোচনার টেবিলে রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ধরনের সামরিক প্রস্তুতি মূলত ইরানের ওপর সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগের একটি কৌশল। যদি এই পরিকল্পনাগুলোর কোনোটি বাস্তবায়িত হয়, তবে তা মধ্যপ্রাচ্যে এক ভয়াবহ ও দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের সূত্রপাত করতে পারে। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে বিদ্যমান বৈরিতা এখন কেবল কূটনৈতিক স্তরে সীমাবদ্ধ না থেকে সরাসরি সামরিক সংঘাতের দোরগোড়ায় পৌঁছেছে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।
