ঢাকার মিরপুরের পল্লবীতে যুবদল নেতা গোলাম কিবরিয়াকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় দুই ব্যক্তিকে বিদেশি রিভলবার ও গুলিসহ গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। আলোচিত এই কিলিং মিশনে ছয় থেকে সাতজন অংশ নিয়েছিল বলে জানা গেছে। র্যাবের তদন্তে উঠে এসেছে যে, স্থানীয় বিএনপির দুটি গ্রুপের মধ্যে রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করেই এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়।
হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে পল্লবীর ৯১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ও শীর্ষ সন্ত্রাসী মফিজুর রহমান ওরফে মামুনের নাম উঠে এসেছে। বর্তমানে বিদেশে পলাতক থাকা এই বিএনপি নেতা এলাকায় চাঁদাবাজি ও আধিপত্য ধরে রাখতে ভাড়াটে সন্ত্রাসীদের দিয়ে কিবরিয়াকে হত্যা করিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বিদেশে বসেই মামুন পল্লবী এলাকার অপরাধ জগৎ নিয়ন্ত্রণ করছেন বলে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
নিহত গোলাম কিবরিয়া এক সময় মামুনরে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন। তবে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরবর্তী পরিস্থিতিতে এলাকায় কিবরিয়ার প্রভাব বাড়তে শুরু করলে মামুনের সঙ্গে তার সম্পর্কের ফাটল ধরে। মূলত মাদক চোরাকারবারি, চাঁদাবাজি ও জমি দখলের মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের নিয়ন্ত্রণ নিয়েই দুই পক্ষের মধ্যে এই চরম দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়েছিল।
পল্লবী থানা যুবদলের সদস্যসচিব কিবরিয়া হত্যাকাণ্ডের এই ঘটনায় সরাসরি অংশ নেওয়া শুটারদের গ্রেপ্তারের পর এলাকায় স্বস্তি ফিরলেও মূল হোতা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে। র্যাব জানিয়েছে, এই অপরাধী চক্রের অন্যান্য সদস্যদের ধরতে এবং এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে তাদের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
