ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুথি বিদ্রোহীরা আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যোগ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। অল্প কিছুক্ষণ আগে দলটির মুখপাত্র এক বিবৃতিতে এই ঘোষণা নিশ্চিত করেন। তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘোষিত লক্ষ্য অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত এবং সব রণাঙ্গনে আগ্রাসন বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত তাদের এই সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকবে। ইসরায়েল অভিমুখে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর এই সরাসরি যুদ্ধের ঘোষণা মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আরও নাজুক করে তুলেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, হুথিদের এই যুদ্ধ ঘোষণার ফলে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ ‘বাব আল-মান্দেব’ প্রণালি এখন চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে। ইয়েমেনের দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত এই প্রণালিটি লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরকে যুক্ত করেছে, যা সুয়েজ খালের দিকে যাওয়ার প্রধান সমুদ্রপথ। গুরুত্বপূর্ণ এই রুটটি হুথি বিদ্রোহীদের ঘাঁটির খুব কাছে হওয়ায় এখানে যেকোনো সময় জাহাজ চলাচল বিঘ্নিত হতে পারে।
বৈশ্বিক অর্থনীতিতে এই সংকটের প্রভাব হবে সুদূরপ্রসারী। সমুদ্রপথে বিশ্বে যত তেল পরিবাহিত হয়, তার প্রায় ১২ শতাংশই এই বাব আল-মান্দেব প্রণালি দিয়ে যাতায়াত করে। এটি বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম শিপিং রুট হিসেবে পরিচিত। ইতোমধ্যে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল পরিবহনের পথ ‘হরমুজ প্রণালি’ ইরানের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এখন যদি বাব আল-মান্দেবেও জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটে, তবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ও সরবরাহ ব্যবস্থা বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়বে।
হুথিদের এই পদক্ষেপের ফলে মধ্যপ্রাচ্য সংকট এখন কেবল ফিলিস্তিন বা ইসরায়েল সীমান্তের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা একটি আঞ্চলিক ও অর্থনৈতিক যুদ্ধে রূপ নিচ্ছে। লোহিত সাগরে নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক শিপিং কোম্পানিগুলো তাদের রুট পরিবর্তন করতে পারে, যার ফলে বিশ্বজুড়ে পণ্য পরিবহন খরচ বহুগুণ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিশ্বশক্তিগুলো এখন গভীর উদ্বেগের সাথে এই অঞ্চলের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করছে।






