সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান এয়ার বেসে ইরানের সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় মার্কিন বিমান বাহিনীর একটি ই-৩ সেন্ট্রি অ্যাওয়াক্স (E-3 Sentry AWACS) নজরদারি বিমান এবং বেশ কয়েকটি জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান (Refueling aircraft) ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ‘এয়ার অ্যান্ড স্পেস ফোর্সেস’-এর বরাতে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। এই হামলার ফলে ওই অঞ্চলে মার্কিন সামরিক সক্ষমতা এবং কৌশলগত নজরদারি ব্যবস্থার ওপর বড় ধরনের আঘাত লেগেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রিন্স সুলতান এয়ার বেসটি এই অঞ্চলে মার্কিন ও মিত্র বাহিনীর কার্যক্রম পরিচালনার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি কেন্দ্র। ই-৩ সেন্ট্রি অ্যাওয়াক্স বিমানটি মূলত উন্নত রাডার ব্যবস্থার মাধ্যমে আকাশপথে শত্রু মোকাবিলা এবং যুদ্ধক্ষেত্রে কমান্ড ও কন্ট্রোল বজায় রাখতে ব্যবহৃত হয়। এই ধরণের অত্যাধুনিক বিমানের ক্ষয়ক্ষতি মার্কিন বিমান বাহিনীর জন্য একটি বড় প্রযুক্তিগত ও কৌশলগত লোকসান।
হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত জ্বালানি সরবরাহকারী বিমানগুলো যুদ্ধের সময় আকাশে থাকা যুদ্ধবিমানগুলোকে জ্বালানি দিতে ব্যবহৃত হয়। এগুলোর অনুপস্থিতিতে ওই অঞ্চলে মার্কিন যুদ্ধবিমানগুলোর দীর্ঘ সময় আকাশে থাকার সক্ষমতা কমে যেতে পারে। ইরানের এই সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার সক্ষমতা মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করা মার্কিন ও সৌদি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
এই ঘটনার পর সৌদি আরব ও পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান এই ছায়াযুদ্ধ এখন সরাসরি সম্মুখ সমরে রূপ নেওয়ার উপক্রম হয়েছে। এই ক্ষয়ক্ষতির প্রেক্ষিতে ওয়াশিংটন বা পেন্টাগন থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক পাল্টা ব্যবস্থার ঘোষণা আসেনি, তবে পরিস্থিতি অত্যন্ত উত্তপ্ত ও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে।
