ইসরায়েলের নেগেভ মরুভূমিতে অবস্থিত অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নবায়নযোগ্য শক্তি কেন্দ্র ‘আশালিম পাওয়ার স্টেশনে’ আজ একটি ইরানি ব্যালিস্টিক মিসাইল সরাসরি আঘাত হেনেছে। বীরশেবা শহরের দক্ষিণে অবস্থিত এই বিশাল সোলার ফটোভোলটাইক ফার্মটি ইসরায়েলের জ্বালানি খাতের একটি প্রধান অংশ। এই হামলার ফলে ওই অঞ্চলের বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আশালিম পাওয়ার স্টেশনটি ইসরায়েলের অন্যতম বৃহৎ সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র, যা প্রায় ৩১০-৩২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করে দেশের জ্বালানি চাহিদা মেটাত। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ইরানি মিসাইলের সরাসরি আঘাতে পাওয়ার স্টেশনের সোলার প্যানেল এবং সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বিশাল এলাকা জুড়ে থাকা এই সোলার ফার্মের একটি বড় অংশ এখন অকেজো হয়ে পড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নেগেভ মরুভূমির এই কেন্দ্রটি ইসরায়েলের পরিবেশবান্ধব জ্বালানি নীতির অন্যতম ভিত্তি ছিল। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এই সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানোর সক্ষমতা ইসরায়েলের কৌশলগত স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে বীরশেবা এবং এর আশেপাশের সামরিক ও বেসামরিক এলাকায় এর প্রভাব সুদূরপ্রসারী হতে পারে।
এই হামলার পর ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) পুরো নেগেভ অঞ্চলে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে। অন্যদিকে, ইরান এই সফল হামলার মাধ্যমে তাদের ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তির নির্ভুলতা প্রদর্শন করার দাবি করেছে। এই ঘটনার ফলে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করল এবং ইসরায়েলের জ্বালানি নিরাপত্তা এক নজিরবিহীন ঝুঁকির মুখে পড়ল।
