যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানের বুদ্ধিজীবী ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের কাছ থেকে ইরানের প্রতি অভূতপূর্ব সমর্থনের চিত্র ফুটে উঠেছে। সংবাদমাধ্যমের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, পাকিস্তানের প্রধান ১৩টি উর্দু ও ইংরেজি দৈনিক পত্রিকায় এখন পর্যন্ত ইরান-ইসরায়েল সংঘাত নিয়ে প্রায় ১ হাজারটি নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। অবাক করার মতো তথ্য হলো, এসব নিবন্ধের ৯৯.৯ শতাংশই সরাসরি ইরানের পক্ষাবলম্বন করে লেখা হয়েছে।
এই নিবন্ধগুলোর লেখকদের তালিকায় রয়েছেন পাকিস্তানের সবচেয়ে প্রভাবশালী টেকনোক্র্যাট, সাবেক সামরিক জেনারেল এবং জ্যেষ্ঠ রাজনৈতিক বিশ্লেষকগণ। দেশটির নীতিনির্ধারক ও বুদ্ধিজীবী মহলের এই বিশাল অংশ মনে করছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরানের প্রতিরোধ সংগ্রামই সঠিক পথ। তারা ইরানের ওপর চাপিয়ে দেওয়া এই যুদ্ধের তীব্র নিন্দা জানানোর পাশাপাশি পশ্চিমা বিশ্বের ওপর কিছু আরব দেশের অতিনির্ভরশীলতারও কঠোর সমালোচনা করছেন।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, পাকিস্তানের সাধারণ জনগণের পাশাপাশি শিক্ষিত ও প্রভাবশালী শ্রেণির এই ঐক্যবদ্ধ অবস্থান তেহরানের জন্য একটি বড় নৈতিক বিজয়। এটি প্রমাণ করে যে, কৌশলগত এবং আদর্শিক উভয় দিক থেকেই পাকিস্তানের অভিজাত শ্রেণি ইরানকে এই অঞ্চলের একটি স্থিতিশীল শক্তি হিসেবে বিবেচনা করছে। এই সমর্থন কেবল আবেগীয় নয়, বরং গভীর রাজনৈতিক ও সামরিক বিশ্লেষণের ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয়েছে।
পাকিস্তানের এই বুদ্ধিজীবী মহলের জোরালো অবস্থান তেল আবিব এবং ওয়াশিংটনের জন্য একটি স্পষ্ট বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। দক্ষিণ এশিয়ার একটি শক্তিশালী পারমাণবিক শক্তিধর দেশের নীতিনির্ধারক ও সাবেক সামরিক কর্মকর্তাদের এমন প্রকাশ্য সমর্থন মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে। এই সংহতি ইরানকে আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক পরিমণ্ডলে আরও আত্মবিশ্বাসী করে তুলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
