বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, ঈদুল ফিতরের ছুটির সময়ে দেশের আটটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য দলীয় বিবেচনায় পরিবর্তন করা অস্বাভাবিক, নজিরবিহীন এবং উদ্বেগজনক।
শনিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, যখন বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বন্ধ এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা ছুটিতে রয়েছেন, ঠিক সেই সময়ে হঠাৎ করে উপাচার্য পরিবর্তনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এটি দেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার জন্য একটি নেতিবাচক দৃষ্টান্ত।
তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় জাতির বিবেক গঠনের কেন্দ্র। সেখানে যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার পরিবর্তে দলীয় আনুগত্যকে অগ্রাধিকার দেওয়া হলে প্রতিষ্ঠানগুলোর মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয় এবং শিক্ষাব্যবস্থার প্রতি জনআস্থা কমে যায়। ইতোমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে মানুষের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
গোলাম পরওয়ার বলেন, জনগণের করের টাকায় পরিচালিত এসব প্রতিষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি। তিনি প্রশ্ন তোলেন—কোন যুক্তিতে এবং কী কারণে পূর্ববর্তী উপাচার্যদের অপসারণ করা হলো, তার স্পষ্ট ব্যাখ্যা জাতির সামনে তুলে ধরতে হবে।
তিনি আরও বলেন, দায়িত্বপ্রাপ্ত উপাচার্যদের সঙ্গে কোনো আলোচনা বা মূল্যায়ন ছাড়াই এভাবে অপসারণ প্রশাসনিক শিষ্টাচারের পরিপন্থী এবং প্রাতিষ্ঠানিক মর্যাদার ওপর আঘাত।
তার মতে, এ ধরনের হঠাৎ সিদ্ধান্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে প্রশাসনিক ও একাডেমিক অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে। তিনি বলেন, নিয়োগপ্রাপ্ত উপাচার্যদের তাদের পূর্ণ মেয়াদ সম্পন্ন করার সুযোগ দেওয়া উচিত। যদি পরিবর্তন প্রয়োজন হয়, তবে তা সংসদে আলোচনা এবং একটি স্বচ্ছ সার্চ কমিটির মাধ্যমে হওয়া উচিত, যেখানে সরকার ও বিরোধীদলের প্রতিনিধিত্ব থাকবে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, একতরফা ও দলীয় বিবেচনায় নিয়োগ উচ্চশিক্ষার অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করবে এবং দীর্ঘমেয়াদে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
সবশেষে তিনি এ ধরনের সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানিয়ে সরকারের কাছে দ্রুত সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা ও দায়িত্বশীল পদক্ষেপ দাবি করেন।







