জুলাই বিপ্লবে ছাত্র-জনতার ওপর সশস্ত্র হামলার অভিযোগে আলোচিত কন্টেন্ট ক্রিয়েটর আর.এস. ফাহিমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রোববার (২৯ মার্চ) বিকেলে রাজধানীর মিরপুর চিড়িয়াখানার সামনে থেকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মী ও স্থানীয় জনতার হাতে আটক হওয়ার পর তাকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। দারুসসালাম জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার ইমদাদ হোসেন জানান, ফাহিমের বিরুদ্ধে দুটি সুনির্দিষ্ট মামলা রয়েছে এবং সেই মামলাতেই তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকেলে আর.এস. ফাহিম তার ব্যক্তিগত প্রাইভেট কারে মিরপুর চিড়িয়াখানা এলাকায় এলে উত্তেজিত ছাত্র-জনতা তাকে ঘিরে ধরে। জুলাই আন্দোলনে তার বিতর্কিত ভূমিকা ও উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে সেখানে স্লোগান ও বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে নিরাপত্তার স্বার্থে শিক্ষার্থীরা তাকে আটকে রেখে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে খবর দেয়। পরবর্তীতে শাহ আলী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নেয়।
শাহ আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, স্থানীয় জনতা তাকে আটকে রাখার খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে যায়। জুলাইয়ের ঘটনাবলি নিয়ে বিভিন্ন থানায় তার বিরুদ্ধে মামলার তথ্য পাওয়া গেছে, যা বর্তমানে যাচাই করে দেখা হচ্ছে। আটকের পর ফাহিমকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একাধিক ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে তাকে শিক্ষার্থীদের জেরা ও পুলিশি বেষ্টনীতে দেখা যায়।
আটক থাকা অবস্থায় আর.এস. ফাহিম তার ফেসবুক পেজে এক স্ট্যাটাসে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। তিনি লেখেন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ‘মব’ করে তাকে হেনস্তা করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি নিজেকে আন্দোলনের পক্ষেই ছিলেন বলে দাবি করেন এবং এর সঠিক বিচার জনগণের ওপর ছেড়ে দেন। সত্য একদিন উন্মোচিত হবে বলেও তিনি তার স্ট্যাটাসে উল্লেখ করেন।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত শিক্ষার্থীরা গণমাধ্যমকে জানান, জুলাই বিপ্লবের সময় ছাত্র-জনতার বিপক্ষে অবস্থান এবং সশস্ত্র হামলায় জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগেই তাকে আটক করা হয়েছে। তারা ফাহিমকে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছেন। বর্তমানে তাকে সংশ্লিষ্ট মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে।







