জাতীয় সংসদের অধিবেশনে ৬ মিনিটের এক ঝোড়ো বক্তব্যে সরকারের কড়া সমালোচনা করেছেন বাংলাদেশের ইতিহাসের সর্বকনিষ্ঠ সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসউদ। বক্তব্যের শুরুতেই তিনি সংসদীয় বৈষম্যের প্রশ্ন তুলে ধরেন। সরকারদলীয় সদস্যদের জন্য ৮ মিনিট বরাদ্দ থাকলেও বিরোধীদলের জন্য কেন ৬ মিনিট রাখা হয়েছে, স্পিকারের কাছে সেই জবাব চান তিনি। এরপর ১৯৭১ সাল থেকে শুরু করে বিগত আমলের অপশাসন ও বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির এক ধারাবাহিক চিত্র তুলে ধরেন।
গণভোট এবং জুলাই সনদ নিয়ে সরকারের দ্বিমুখী অবস্থানের তীব্র নিন্দা জানান মাসউদ। তিনি সরাসরি উল্লেখ করেন, খোদ বর্তমান প্রধানমন্ত্রী এবং মন্ত্রিসভার সদস্যরা যে গণভোটের পক্ষে প্রচারণা চালিয়েছেন, এখন সেই সনদ নিয়ে নতুন করে আলোচনার প্রয়োজনীয়তা কেন দেখা দিচ্ছে। রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে সরকারের এমন অবস্থানকে তিনি জনআকাঙ্ক্ষার পরিপন্থী বলে দাবি করেন।
নিজস্ব নিরাপত্তা এবং আইনশৃঙ্খলার অবনতি নিয়ে দুটি গুরুতর বিষয় পয়েন্ট আউট করেন এই তরুণ সংসদ সদস্য। তিনি জানান, সংসদ সদস্য হওয়ার পরেও তার ওপর দুইবার হামলা চালানো হয়েছে। প্রকাশ্যে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা ঘুরে বেড়ালেও পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করতে পারছে না বলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তার এই বক্তব্যের সময় সংসদ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং এক পর্যায়ে তার মাইক বন্ধ করে দেওয়া হয়, যদিও পরে তা আবার চালু করতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ।
একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও পৈশাচিক ঘটনার বিবরণ দিয়ে মাসউদ জানান, শাপলা কলি প্রতীকে ভোট দেওয়ার কারণে এক নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, ঘটনার এক ঘণ্টার মধ্যে কোনো তদন্ত ছাড়াই পুলিশ গণমাধ্যমে দাবি করেছে যে এমন কিছু ঘটেনি। এমনকি চিকিৎসকের স্টেটমেন্ট এবং মামলার প্রক্রিয়াতেও দীর্ঘসূত্রতা করা হয়েছে। ঘটনার ৪২ দিন পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কোনো বিচার বা দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় তিনি চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে তিনি মন্ত্রীদের দায়িত্ব পালনের ধরন নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। মাসউদ সোজাসুজি বলেন, আইনের ব্যাখ্যা দেওয়ার কাজ আইনমন্ত্রীর, সেটি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাজে না। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে তার মূল দায়িত্ব অর্থাৎ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং অপরাধীদের তালিকা করে বিচারের আওতায় আনার কাজে মনোনিবেশ করার আহ্বান জানান তিনি। বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে তার এই বলিষ্ঠ বক্তব্য সংসদজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।







