ঢাকার মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্প এবং মিরপুরের পল্লবী ক্যাম্পে দশকের পর দশক ধরে বসবাসকারী উর্দুভাষী অবাঙালি পরিবারগুলো চরম নিরাপত্তাহীনতা ও মাদকের বিস্তারের মধ্যে দিনাতিপাত করছে। সীমিত আয়ের এই মানুষগুলোর বসতিতে প্রকাশ্যেই মাদক বিক্রি ও সেবনের মহোৎসব চলছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, জেনেভা ক্যাম্প যেন শহরের ভেতরে এমন এক শহর হয়ে উঠেছে, যেখানে আইনশৃঙ্খলার উপস্থিতি নেই বললেই চলে।
ক্যাম্পের সাধারণ বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় এখানে মাদকের কারবার চলে। এসবের প্রতিবাদ করলে বাসিন্দাদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়, এমনকি গুলি করে মারার ভয়ও দেখানো হয়। স্থানীয়দের মতে, পুলিশ চাইলে এই অপরাধচক্র নির্মূল করতে পারে, কিন্তু কার্যকর পদক্ষেপের অভাবে পরিস্থিতি বছরের পর বছর একই রকম রয়ে গেছে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, শুধু প্রশাসনিক উদ্যোগ দিয়ে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়; এর জন্য রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও সামাজিক সচেতনতা প্রয়োজন। সম্প্রতি পুলিশ কিছু অভিযান চালিয়ে বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার ও দণ্ড দিলেও মূল মাদক কারবারিরা এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছে। ডিএমপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে এবং অভিযান অব্যাহত থাকবে।
ভুক্তভোগী বাসিন্দাদের দাবি, কেবল অভিযান চালিয়ে ক্যাম্পের পরিবেশ বদলানো সম্ভব নয়। তাদের জীবনমানের প্রকৃত উন্নয়নের জন্য মাদক ও অপরাধমুক্ত পরিবেশের পাশাপাশি শিক্ষা এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে সরকারকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। প্রিয়জনদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে তারা এখন রাষ্ট্রের স্থায়ী ও কার্যকর হস্তক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছেন।







