স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমেদ সংসদীয় বিধি লঙ্ঘন করেছেন বলে অভিযোগ তুলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর যুগ্ম সদস্য সচিব মোল্লা মোহাম্মদ ফারুক আহসান।
তার দাবি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ৩০১ বিধির অধীনে ‘পয়েন্ট অব অর্ডার’ তুলে রাজনৈতিক বক্তব্য দিয়ে বিধির অপপ্রয়োগ করেছেন। বিশেষ করে আইনমন্ত্রীর উদ্দেশে দেওয়া নোটিশের জবাব ৩০১ বিধিতে দেওয়ার চেষ্টা সরাসরি সংসদীয় বিধির পরিপন্থী।
রোববার রাতে এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে এসব মন্তব্য করেন তিনি।
মোল্লা মোহাম্মদ ফারুক আহসান বলেন, সংসদ অধিবেশনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যে বিধিগুলোর ব্যাখ্যা দিয়েছেন, তা থেকে স্পষ্ট—তিনি সেগুলো ভালোভাবে না পড়েই আত্মবিশ্বাসের ওপর নির্ভর করে বক্তব্য দিয়েছেন।
তিনি ব্যাখ্যা করে বলেন, সংসদীয় বিধি ৬২ অনুযায়ী কোনো সাম্প্রতিক ও জনস্বার্থসম্পন্ন বিষয়ে আলোচনা করতে হলে সংসদের কার্যক্রম মুলতবি করে তা উত্থাপন করতে হয়। এ ক্ষেত্রে সংসদ সচিবের কাছে তিনটি নোটিশ দিতে হয়—যার একটি স্পিকারের কাছে এবং অন্যটি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর কাছে যায়। যেহেতু ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ’ আইন মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন, তাই নোটিশ আইনমন্ত্রীর কাছেই যাওয়ার কথা, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে নয়।
এছাড়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দাবি অনুযায়ী বিষয়টি ৬৮ বিধির অধীনে হবে এবং ২৫ জন সদস্যের স্বাক্ষর প্রয়োজন—এটিকেও ভুল বলে উল্লেখ করেন তিনি। তার মতে, মাত্র পাঁচজন সদস্যের নোটিশেই ৬৮ বিধিতে আলোচনা সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, বিধি ৬২ ও ৬৮-এর মধ্যে কোনটি প্রযোজ্য হবে, তা নির্ধারণের এখতিয়ার সম্পূর্ণভাবে স্পিকারের ওপর নির্ভরশীল।
বিধি ৬৩ নিয়ে দেওয়া ব্যাখ্যাকেও অতিরঞ্জিত বলে দাবি করেন ফারুক আহসান। তার ভাষ্য, কোনো বিষয় আইন প্রণয়নের মাধ্যমে সমাধানযোগ্য হলেই তা ৬২ বিধির আওতায় আনা যাবে না—এ ধারণা সঠিক নয়। বিধি ৬৩ অনুযায়ী কেবল সেই বিষয়গুলোই আলোচনার বাইরে, যেগুলোর প্রতিকার একমাত্র আইন প্রণয়নের মাধ্যমেই সম্ভব।
তিনি বলেন, বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামের বক্তব্য ছিল বিদ্যমান আইন ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫’ এবং গণভোটের রায় নিয়ে। বিরোধী জোট কখনোই বলেনি যে তারা প্রচলিত আইনের মাধ্যমে সংবিধান সংশোধন করতে চায়—এটি সরকারি দলের বক্তব্য।
শেষে তিনি অভিযোগ করেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তার ‘চমকপ্রদ’ বক্তব্যের মাধ্যমে সংসদ ও জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছেন। একই সঙ্গে তিনি প্রত্যাশা করেন, এমন তাৎক্ষণিক চমক দেখানোর বদলে মন্ত্রী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নে বেশি মনোযোগ দেবেন।
