সংসদ ভবন এলাকায় তীব্র পানির সংকট দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন সংসদ কমিটির সভাপতি ও চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি। তিনি বলেন, পানির সমস্যা এতটাই প্রকট যে গত দুই-তিন দিন ধরে ঘোলা পানি সরবরাহ করা হয়েছে, এতে তিনি নিজেও অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। সংকট সমাধানে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হবে বলেও জানান তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, যেখানে দৈনিক প্রায় ১ কোটি লিটার পানির প্রয়োজন, সেখানে উৎপাদন হচ্ছে মাত্র ২৭ লাখ লিটার।
সোমবার জাতীয় সংসদে কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি। তার সভাপতিত্বে বৈঠকে অংশ নেন কমিটির সদস্য রকিবুল ইসলাম, মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, মোহাম্মদ কয়ছর আহমেদ, মো. শহিদুল ইসলাম, নায়াব ইউসুফ আহমেদ, এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন, মো. অলি উল্লাহ, মো. সাইফুল আলম ও মো. আবুল হাসনাত।
বিজ্ঞাপন
চিফ হুইপ জানান, আগামী ১০ এপ্রিলের মধ্যে সংসদ সদস্যদের আবাসন বরাদ্দ দেওয়া হবে। তবে অনেক প্রয়োজনীয় সামগ্রী নেই বা নষ্ট হয়ে গেছে, সেগুলো মেরামতের কাজ চলছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, খুব শিগগিরই সংসদ সদস্যরা বাসায় উঠতে পারবেন।
সংসদ ভবনের স্বাস্থ্যসেবা নিয়েও আলোচনা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, একটি আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্স এবং লাশবাহী ফ্রিজিং গাড়ির প্রয়োজন রয়েছে।
সংসদের সাউন্ড সিস্টেম এখনো পুরোপুরি সচল না হওয়ায় তা উন্নত বা প্রয়োজনে নতুন সিস্টেম স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ সংক্রান্ত তদন্ত কমিটি আগামী ২ এপ্রিলের মধ্যে প্রতিবেদন দেবে বলেও জানান তিনি।
সময় বরাদ্দ নিয়ে বিরোধী দলের অভিযোগ প্রসঙ্গে নূরুল ইসলাম মনি বলেন, সাধারণত সংসদে বিরোধী দলই বেশি কথা বলার সুযোগ পায় এবং তা নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে। বিল ও বাজেট আলোচনাতেও বিরোধী দলীয় সদস্যরা অংশ নেন। শুধু রাষ্ট্রপতির ভাষণের আলোচনার সময় সমানভাবে সময় বণ্টন করা হয়েছে।
সংসদ সচিবালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৈঠকে সংসদের সাউন্ড সিস্টেমের ত্রুটি শনাক্তে রকিবুল ইসলামকে আহ্বায়ক করে একটি এবং ক্যান্টিনের খাবারের মান, পানির গুণগত মান ও সংসদ সদস্যদের আবাসনের আসবাবপত্র যাচাইয়ে নায়াব ইউসুফ আহমেদকে আহ্বায়ক করে আরেকটি সাব-কমিটি গঠন করা হয়েছে।
এছাড়া সংসদ সদস্য ভবনের জন্য আসবাবপত্র কেনাকাটায় অতীতের মতো অনিয়ম যাতে না ঘটে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়। প্রতিটি পণ্যের মান নিশ্চিত করা এবং ক্রয়মূল্য যৌক্তিক রাখার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
