কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলায় নিজেকে ‘খাঁটি বিএনপি’ দাবি করে নতুন রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন আওয়ামী লীগ আমলের প্রভাবশালী যুবলীগ নেতা প্রকৌশলী আখতারুজ্জামান রিপন। তার এই দাবিকে ঘিরে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। পদ-পদবি না থাকলেও বিগত সময়ে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতার নানা প্রমাণ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচিত হচ্ছে।
ইঞ্জিনিয়ার রিপন ২০২৪ সালের উপজেলা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়ে ব্যর্থ হয়ে ‘আনারস’ প্রতীক নিয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। নির্বাচনে পরাজিত হলেও তার দাবি, সাবেক সংসদ সদস্য আকম বাহাউদ্দিন বাহারের হস্তক্ষেপে তার বিজয় ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তিনি নিজেকে কোনো রাজনৈতিক দলের সাথে সরাসরি যুক্ত নন বলে দাবি করলেও অতীতে ব্যবসায়িক প্রয়োজনে যুবলীগ নেতাদের সাথে চলাফেরা করেছেন বলে স্বীকার করেছেন।
নিজের রাজনৈতিক ইতিহাস ব্যাখ্যা করতে গিয়ে রিপন জানান, ১৯৯৪ সালে তিনি ছাত্রদলের রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলেন এবং ২০১৩ সালে সদর দক্ষিণ উপজেলার গলিয়ারা ইউনিয়নে বিএনপির অফিস উদ্বোধন করেছিলেন। তবে গত ১৭ বছর কোনো রাজনৈতিক দলের সাথে তার যোগাযোগ নেই বলে তিনি দাবি করেন। তার এই বক্তব্যকে রাজনৈতিক ডিগবাজি হিসেবে দেখছেন স্থানীয় তৃণমূল কর্মীরা।
কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মাহাবুব আলম চৌধুরী এই বিষয়ে কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেছেন। তিনি জানান, বিগত ১৭ বছরের রাজপথের আন্দোলনে যাদের দেখা যায়নি এবং যারা আওয়ামী লীগের সাথে মিলেমিশে ছিল, তাদের বিএনপিতে কোনো স্থান হবে না। তৃণমূল নেতাকর্মীরা তাকে ‘হাইব্রিড নেতা’ আখ্যা দিয়ে মাঠে প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়েছেন।







