কুমিল্লায় উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে হামের প্রকোপ। গত এক মাসে জেলায় হামের উপসর্গ নিয়ে তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। সোমবার (৩০ মার্চ) সন্ধ্যায় জেলা সিভিল সার্জন ডা. আলী নূর মোহাম্মদ বশির এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। মৃত শিশুদের মধ্যে একজন কুমিল্লা সিটি করপোরেশন এলাকার এবং বাকি দুজন তিতাস উপজেলার বাসিন্দা। তবে তাদের নমুনা পরীক্ষা করার আগেই মৃত্যু হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত তদন্ত চলছে।
সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে কুমিল্লার বিভিন্ন হাসপাতালে ২১ জন শিশু হাম আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছে। গত এক মাসে জেলায় ৬৯ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে, যার মধ্যে ১৮ জনের শরীরে হামের সংক্রমণ পজিটিভ এসেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্য বিভাগ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং আক্রান্তদের এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে টিকাদান ও আইসোলেশনে থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হাম আক্রান্ত শিশুদের জন্য ‘হাম আইসোলেশন’ নামে আলাদা একটি বিশেষায়িত ওয়ার্ড গঠন করা হয়েছে। হাসপাতালের শিশু বিভাগের প্রধান ডা. মিয়া মনজুর আহমেদ জানান, ১৮ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত ২৫ জন শিশু এই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে আটজন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেও ১৫ জন এখনও চিকিৎসাধীন এবং দুজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
হাসপাতালটিতে ধারণক্ষমতার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি রোগী হওয়ায় চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক ও নার্সরা। ৫২টি বেডের বিপরীতে বর্তমানে ১৭৯ জন শিশু রোগী ভর্তি থাকায় অনেককে মেঝেতে চাটাই বিছিয়ে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। গাদাগাদি করে থাকায় সংক্রমণ আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় রয়েছেন অভিভাবকরা। হাসপাতাল পরিচালক ডা. মাসুদ পারভেজ জানিয়েছেন, রোগীর চাপ বাড়লে আবাসন সংকট আরও তীব্র হতে পারে, তবে চিকিৎসা ও টিকাদানে কোনো ঘাটতি নেই।
