ইসরাইলের কারাগারে আটক ফিলিস্তিনিদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের অনুমোদন দিয়ে দেশটির পার্লামেন্ট নেসেটে একটি বিতর্কিত বিল পাস হয়েছে। এ আইন কার্যকর হলে ছয় দশকের বেশি সময় পর দেশটিতে আবার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর শুরু হতে পারে।
স্থানীয় সময় সোমবার সন্ধ্যায় ভোটের মাধ্যমে বিলটি অনুমোদিত হয়।
সংবাদমাধ্যম জেরুজালেম পোস্টের তথ্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু অধিবেশনে উপস্থিত থেকে বিলটির পক্ষে ভোট দেন।
বিলটি পাস হওয়াকে কট্টর ডানপন্থী গোষ্ঠীগুলোর বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির ও তার দল ওৎজমা ইহুদিতের উদ্যোগে এটি নেসেটে উত্থাপন করা হয়। তাদের দাবি, এই আইন সন্ত্রাস দমনে কার্যকর ভূমিকা রাখবে এবং ভুক্তভোগীদের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবে।
তবে বিলটি নিয়ে নেসেটে তীব্র মতবিরোধ দেখা গেছে। বিরোধীদলীয় নেতা ইয়ার লাপিদ বলেন, এটি কার্যকর কোনো আইন নয়, বরং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পদক্ষেপ। একইভাবে বেনি গান্টজও এর বিরোধিতা করেন।
নতুন আইনে বলা হয়েছে, অধিকৃত পশ্চিম তীরে হত্যাকাণ্ডের দায়ে দোষী সাব্যস্ত ফিলিস্তিনিদের ক্ষেত্রে ফাঁসি হবে স্বাভাবিক শাস্তি। পাশাপাশি ইসরাইলি আদালত নিজ দেশের নাগরিকদের ক্ষেত্রেও মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়ার ক্ষমতা পাবে। তবে আইনটি পূর্ববর্তী ঘটনার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়; শুধুমাত্র ভবিষ্যতের মামলায় কার্যকর হবে।
এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছে ইসরাইলি ও ফিলিস্তিনি মানবাধিকার সংস্থাগুলো। তাদের মতে, এটি বৈষম্যমূলক ও কঠোর আইন, যা সহিংসতা প্রতিরোধে কার্যকর হবে না।
উল্লেখ্য, ইসরাইলের ইতিহাসে এখন পর্যন্ত মাত্র দুবার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে। সর্বশেষ ১৯৬২ সালে নাৎসি কর্মকর্তা অ্যাডলফ আইখম্যানকে ফাঁসি দেওয়া হয়। নতুন আইনটি কার্যকর হলে দীর্ঘ বিরতির পর আবারও মৃত্যুদণ্ড কার্যকর শুরু হতে পারে।
