২০২৫ সালের জুন মাসে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ বিমান হামলার ঠিক আগমুহূর্তে ইরান তাদের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের বিশাল একটি মজুত অত্যন্ত গোপনীয়ভাবে স্থানান্তর করেছে বলে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, ইরান তাদের প্রায় ৫৪০ কেজি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ইসফাহানের একটি দুর্ভেদ্য ভূগর্ভস্থ টানেল কমপ্লেক্সে সরিয়ে নিয়েছে। এই ঘটনাটি আন্তর্জাতিক মহলে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে, কারণ এর ফলে ইরান পারমাণবিক বোমা তৈরির দোরগোড়ায় পৌঁছে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অ্যাটমিক সায়েন্টিস্টস বুলেটিনের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ৯ জুনের একটি উচ্চ-রেজোলিউশন ছবিতে ইসফাহানের ওই টানেল প্রবেশপথে ১৮টি বিশেষ কন্টেইনারবাহী ভারী ট্রাকের উপস্থিতি ধরা পড়ে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এগুলো ‘টাইপ বি’ নিউক্লিয়ার ট্রান্সপোর্ট ট্রাক হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। এই ট্রাকগুলো ইরানের হাতে থাকা ৬০% মাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের পুরো মজুত বহন করতে সক্ষম। এর অর্থ হলো, পশ্চিমা হামলা শুরু হওয়ার আগেই ইরান নাতাঞ্জ ও ফোরদোর মতো স্পর্শকাতর স্থাপনাগুলো খালি করে তাদের মূল্যবান পারমাণবিক সম্পদ নিরাপদ স্থানে সরিয়ে ফেলতে সক্ষম হয়েছে।
সামরিক বিশ্লেষকদের জন্য সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হলো এই মজুতের বর্তমান অবস্থা। তাত্ত্বিকভাবে, এই ৬০% সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামকে উন্নত সেন্ট্রিফিউজ ব্যবহার করে মাত্র ১০ দিনের মধ্যে অস্ত্র-গ্রেড বা ৯০% মাত্রায় রূপান্তর করা সম্ভব। বর্তমানে এই মজুতটি একটি অক্ষত ভূগর্ভস্থ স্থাপনায় সংরক্ষিত থাকায় তা যেকোনো ধরনের বিমান হামলা থেকে নিরাপদ। আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থা (আইএইএ) এখনো এই মজুতের সঠিক অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হতে না পারায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
যদিও এই ট্রাকগুলোতে মেডিকেল আইসোটোপ বা সাধারণ নির্মাণ সামগ্রী থাকার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না, তবে পারমাণবিক বিশেষজ্ঞদের কাছে সেই যুক্তিগুলো খুব একটা জোরালো মনে হচ্ছে না। টানেলের প্রবেশপথগুলো বর্তমানে মাটি চাপা দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে, যা নির্দেশ করে যে ইরান তাদের এই সম্পদকে যেকোনো মূল্যে রক্ষা করতে চায়। সব মিলিয়ে, ইরান কি গোপনে তাদের প্রথম পারমাণবিক বোমার কাজ সম্পন্ন করে ফেলছে কি না—এই প্রশ্নই এখন বিশ্ব রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে।







