ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনমে পরকীয়া প্রেমিকাকে হত্যার পর দেহ খণ্ডবিখণ্ড করার অভিযোগে চিন্তাদা রবীন্দ্র নামে এক নৌবাহিনী কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ২০২১ সালে একটি ডেটিং অ্যাপের মাধ্যমে ৩০ বছর বয়সী রবীন্দ্রের সঙ্গে পলিপাল্লি মৌনিকার পরিচয় হয়। দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্কের একপর্যায়ে গত রবিবার রবীন্দ্রের স্ত্রী বাবার বাড়িতে গেলে তিনি মৌনিকাকে নিজের বাসায় ডেকে আনেন। সেখানে দুজনের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হলে রবীন্দ্র তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন।
হত্যাকাণ্ডের পর অপরাধ আড়াল করতে রবীন্দ্র অনলাইন থেকে একটি ছুরি কেনেন এবং তা দিয়ে মৌনিকার মাথা, হাত ও পা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করেন। পুলিশি তদন্তে জানা গেছে, মরদেহের পাগুলো একটি ট্রলি ব্যাগে রাখা হয়েছিল এবং শরীরের কিছু অংশ ফ্রিজে সংরক্ষণ করেছিলেন অভিযুক্ত ওই কর্মকর্তা। বীভৎস এই ঘটনার পর রবীন্দ্র নিজেই থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেন এবং নিজের অপরাধ স্বীকার করেন।
জিজ্ঞাসাবাদে রবীন্দ্র দাবি করেছেন, সম্পর্কের চলাকালীন মৌনিকা তার কাছ থেকে সাড়ে তিন লাখ রুপি নিয়েছিলেন। সাম্প্রতিক সময়ে মৌনিকা তাদের এই গোপন সম্পর্কের বিষয়টি রবীন্দ্রের স্ত্রীকে জানিয়ে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছিলেন। এই অর্থসংক্রান্ত বিরোধ এবং সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হওয়ার ভয় থেকেই তিনি এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।
পুলিশ বর্তমানে ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করছে এবং বিচ্ছিন্ন দেহাংশগুলো ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। অভিযুক্ত নৌবাহিনী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে হত্যা ও তথ্যপ্রমাণ গোপনের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুরো ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে বিশাখাপত্তনম পুলিশ বিস্তারিত তদন্ত শুরু করেছে।
