গোয়েন্দা সংস্থার সাম্প্রতিক তদন্ত প্রতিবেদনে বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে কৃত্রিম সংকট তৈরির পেছনে একাধিক শক্তিশালী সিন্ডিকেট ও চক্রের অস্তিত্ব ধরা পড়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং বিশেষ করে ইরানে হামলার পর সৃষ্ট বৈশ্বিক অস্থিরতাকে পুঁজি করে এসব চক্র দেশের তেলের বাজার অস্থিতিশীল করছে। মূলত অধিক মুনাফা লাভ এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টির লক্ষ্যেই এই কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হচ্ছে বলে গোয়েন্দা তথ্যে উঠে এসেছে।
তদন্ত অনুযায়ী, এই কারসাজিতে দুটি প্রধান সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে—যার একটি চট্টগ্রাম ও বঙ্গোপসাগর কেন্দ্রিক এবং অন্যটি ঢাকা ও খুচরা বাজার কেন্দ্রিক। বিদেশি জাহাজ থেকে অবৈধভাবে তেল নামিয়ে আনা এবং পরবর্তী সময়ে ডিলার পর্যায়ে সরবরাহে বিঘ্ন ঘটিয়ে সাধারণ মানুষকে ভোগান্তিতে ফেলা হচ্ছে। এছাড়া পেট্রোল পাম্প মালিকদের একটি বড় অংশ এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত থেকে পাম্পে তেল থাকা সত্ত্বেও ‘সরবরাহ নেই’ বলে বিক্রি বন্ধ রাখছেন।
সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে পরিচালিত অভিযানে এসব জালিয়াতির প্রমাণ মিলেছে। চট্টগ্রাম, জামালপুর, শেরপুর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে অভিযান চালিয়ে হাজার হাজার লিটার অবৈধভাবে মজুত করা ডিজেল ও পেট্রোল জব্দ করেছে প্রশাসন। প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়েছে, জাহাজ থেকে ডিপো এবং ডিপো থেকে লরিতে তেল লোড করার সময় কর্মকর্তাদের যোগসাজশে চুরির ঘটনা ঘটছে, যা পরে কালোবাজারে বিক্রি করা হয়।
জ্বালানি বিশ্লেষক ও ভোক্তা অধিকার রক্ষা সংগঠনগুলোর মতে, এই খাতের অনিয়ম বন্ধে কঠোর নজরদারি ও লাইসেন্স বাতিলের মতো দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রয়োজন। বিশেষ করে জ্বালানি খাতকে দ্রুত শতভাগ অটোমেশনের আওতায় না আনলে এই ধরণের কারচুপি পুরোপুরি বন্ধ করা কঠিন হবে। বর্তমানে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অপরাধীদের ধরতে পুরস্কার ঘোষণা করেছে এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অভিযান জোরদার করা হয়েছে।
