বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি-বিজেপির চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ সম্প্রতি এনসিপিকে সংবিধান সংশোধন ইস্যুতে জামায়াতে ইসলামীর সাথে ঘনিষ্ঠ না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। জামায়াতের সাথে এনসিপিও গণভোটের গণরায় কার্যকরের পক্ষে থাকায় আজ পার্থ এনসিপিকে ‘জামায়াত জেনারেশন’ না হওয়ার পরামর্শ দেন।
তার এই মন্তব্যের প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক মহলে বিজেপির নিজস্ব অতীত অবস্থান নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে, যেখানে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও সংবিধান সংশোধনের পক্ষে দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ মত দিয়েছে, সেখানে এনসিপিকে ‘জামায়াত জেনারেশন’ না হওয়ার পার্থের এই আহ্বানকে অনেকেই কৌতূহল হিসেবে দেখছেন।
ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, আন্দালিব রহমান পার্থের নেতৃত্বাধীন বিজেপি প্রায় দুই দশক ধরে জামায়াতে ইসলামীর সাথে একই রাজনৈতিক জোটে ছিল। ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বিএনপির নেতৃত্বে গঠিত ৪ দলীয় জোটে জামায়াত ও বিজেপির (তৎকালীন জাতীয় পার্টি-নাজিউর) অবস্থান ছিল সুসংহত। ২০০১-২০০৬ মেয়াদে এই জোট সরকার গঠন করলে তা ‘বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার’ হিসেবে পরিচিতি পায়। পরবর্তীতে ৪ দলীয় জোট ২০ দলীয় জোটে রূপান্তরিত হলেও সেখানে জামায়াতের সাথে বিজেপির রাজনৈতিক অংশীদারিত্ব বজায় ছিল।

রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে ২০১৯ সালের মে মাসে আন্দালিব রহমান পার্থ হঠাৎ করেই ২০ দলীয় জোট ছাড়ার ঘোষণা দেন। তবে দীর্ঘ বিরতির পর ২০২৬ সালের নির্বাচনের আগে আবারও বিএনপির সাথে রাজনৈতিক ঐক্য গড়ে তোলে বিজেপি। অন্যদিকে, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় এনসিপি এখন জামায়াতের সাথে একই অবস্থানে থেকে গণভোটের রায় কার্যকর ও সংবিধান সংশোধনের পক্ষে সোচ্চার রয়েছে।
পার্থের সাম্প্রতিক এই অবস্থান এবং বিজেপির দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ইতিহাসের বৈপরীত্য এখন টক অব দ্য কান্ট্রি। যেখানে একসময় দল দুটি কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দীর্ঘ সময় রাজনীতি করেছে, সেখানে বর্তমান সময়ে এসে জামায়াতের সাথে সংহতি প্রকাশের বিরোধিতা করায় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে জুলাই সনদের মতো জনগুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে রাজনৈতিক দলগুলোর মেরুকরণ এখন স্পষ্ট হয়ে উঠছে।







