বিএনপির বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ গুম হননি, বরং তার আমলা বন্ধুরা প্রাণ বাঁচাতে তাকে ভারতে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন সাংবাদিক আনিস আলমগীর। সম্প্রতি সালাহউদ্দিন আহমেদ আইন মন্ত্রণালয় নিয়ে কথা বলায় বিরোধী শিবিরের আপত্তির প্রেক্ষিতে তিনি এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আনেন। আনিস আলমগীরের মতে, শেখ হাসিনা সরকারের আমলে যখন বিএনপির মহাসচিব গ্রেপ্তার হয়েছিলেন, তখন ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব নিয়ে ভিডিও বক্তৃতা দেওয়ার কারণেই সালাহউদ্দিন আহমেদ রোষানলে পড়েছিলেন।
আনিস আলমগীর উল্লেখ করেন, উত্তরা থেকে তুলে নেওয়ার পর সরকারের ভেতরে থাকা সালাহউদ্দিনের আমলা বন্ধুরা তাকে প্রাণে বাঁচানোর উদ্দেশ্যেই দেশের বাইরে পাঠিয়ে দেন। তিনি মনে করেন, সালাহউদ্দিন আহমেদ কেবল একজন রাজনীতিবিদ নন; ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রিধারী এবং প্রশাসন ক্যাডারের সাবেক কর্মকর্তা হিসেবে আইন ও প্রশাসন উভয় ক্ষেত্রেই তার গভীর প্রাতিষ্ঠানিক ও বাস্তব জ্ঞান রয়েছে। তাই তার আইন সংক্রান্ত বিষয়ে কথা বলা একেবারেই অস্বাভাবিক কিছু নয়।
সংবিধান সংস্কার প্রক্রিয়ায় বিএনপির প্রতিনিধি হিসেবে সালাহউদ্দিন আহমেদের সফল ভূমিকার কথা উল্লেখ করে আনিস আলমগীর বলেন, বর্তমান সময়ে তিনি দলের ‘ছায়া মহাসচিব’ হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ কাজ করছেন। তার যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও আইন মন্ত্রণালয় নিয়ে কথা বলায় যে আপত্তি তোলা হচ্ছে, তা যুক্তির চেয়ে বেশি রাজনৈতিক আবেগের প্রকাশ বলে তিনি মনে করেন। সমালোচকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, সালাহউদ্দিনের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন না তুলে বরং বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন ও মব কালচার বন্ধে তার মন্ত্রণালয় কতটা কার্যকর, সেটিই আলোচনার মূল বিষয় হওয়া উচিত।
সাংবাদিক আনিস আলমগীর আরও দাবি করেন, যারা সালাহউদ্দিন আহমেদের কথা বলার অধিকার নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন, তারা মূলত আগের আমলের আবদারই অব্যাহত রাখছেন। আইন ও প্রশাসনের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একজন ব্যক্তি হিসেবে সালাহউদ্দিন আহমেদের বক্তব্য দেওয়ার পূর্ণ অধিকার রয়েছে বলে তিনি জোরালো মত দেন। বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় তার অতীত এবং অভিজ্ঞতাকে খাটো করে দেখার সুযোগ নেই বলেও তিনি মন্তব্য করেন।







