জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে জুলাই সনদ নিয়ে আলোচনায় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর সদস্যসচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন বলেন, জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের পক্ষে জনগণ স্পষ্ট রায় দিয়েছে।
সেই রায়কে অসাংবিধানিক বলা শুধু অযৌক্তিক নয়, বরং সংসদের মর্যাদাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, গণভোট অধ্যাদেশ সংসদে অনুমোদিত হোক বা না হোক, গণভোটকে অবৈধ ঘোষণা করার সুযোগ নেই।
মঙ্গলবার সংসদে বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, তারেক রহমান নিজেই গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। এখন সেই আহ্বানের পরেও কেন গণভোটের ফলাফল মানা হচ্ছে না—এ প্রশ্ন তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে রাখেন।
আখতার হোসেন দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, ৫ আগস্ট থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত দেশে কার্যত কোনো সরকার ছিল না। সেই সময় সংবিধানের কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের গঠন, শপথ এবং গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগগুলো সংবিধানের স্পষ্ট নির্দেশনা ছাড়াই সম্পন্ন হয়েছিল বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক পরিবর্তনের সেই সময়টি ছিল গণঅভ্যুত্থানের ফল, যেখানে জনগণের আকাঙ্ক্ষা ছিল একটি নতুন রাষ্ট্র কাঠামো গঠন করা। সেই লক্ষ্যেই অন্তর্বর্তী সরকার ঐকমত্য কমিশন গঠন করে এবং বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে আলোচনা চালায়।
ঐকমত্য কমিশনের আলোচনায় বর্তমান সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিও উপস্থিত ছিলেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে তখন সবার মধ্যে ঐক্যমত্য তৈরি হয়েছিল। কিন্তু এখন সংসদে এসে সেই অবস্থান থেকে সরে যাওয়ার কারণ কী—তা জানতে চান তিনি।
আখতার হোসেন অতীতের উদাহরণ টেনে বলেন, অতীতে সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে বিতর্কিত নিয়োগের কারণে দেশকে দীর্ঘ সময় ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। তাই একই ভুল পুনরাবৃত্তি না করার আহ্বান জানান তিনি।







