ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের ভূমিকার বিষয়ে হতাশা প্রকাশ করেছে ইরান। বুধবার (১ এপ্রিল) মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ঢাকায় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত জলিল রহীমি জাহানাবাদী এই মনোভাব ব্যক্ত করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, চীন, রাশিয়া ও স্পেনের মতো দেশগুলো নিন্দাপ্রকাশ করলেও বাংলাদেশের মতো মুসলিম প্রধান দেশ থেকে আরও দৃঢ় অবস্থান প্রত্যাশা করে তেহরান।
হরমুজ প্রণালিতে আটকে পড়া বাংলাদেশের ৬টি জাহাজ প্রসঙ্গে রাষ্ট্রদূত জানান, জাহাজগুলোর পূর্ণাঙ্গ তথ্য তেহরানে পাঠানো হয়েছে এবং এগুলোর নিরাপত্তায় কোনো সমস্যা হবে না। বর্তমানে দুই দেশ মিলে জাহাজগুলো দ্রুত ফিরিয়ে আনার বিষয়ে কাজ করছে। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বাংলাদেশের বর্তমান জ্বালানি সংকটের চিত্রও তুলে ধরেন এবং পেট্রোল পাম্পের দীর্ঘ সারির তথ্য ইরানি কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছেন বলে জানান।
আঞ্চলিক সংঘাত নিয়ে রাষ্ট্রদূত অভিযোগ করেন যে, যুদ্ধের মাধ্যমে লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়ে যুক্তরাষ্ট্র এখন তাদের নিজস্ব ১৫টি প্রস্তাবের মাধ্যমে ফায়দা লুটতে চাইছে। তবে ইরান যুদ্ধের পক্ষে নয় এবং মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে পাকিস্তান ও তুরস্কসহ অন্যান্য মুসলিম দেশগুলোর উদ্যোগকে স্বাগত জানায়। তিনি আরও বলেন, নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সংস্থার ওপর এককভাবে নির্ভর করার সময় শেষ হয়ে গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা করে জলিল রহীমি জাহানাবাদী বলেন, ওয়াশিংটন আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে আগ্রাসন চালাচ্ছে এবং অর্থ বা অস্ত্রের অভাব হলে কৌশলে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলার চেষ্টা করে। এছাড়া ফিলিস্তিনে হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন, কীভাবে মুসলিম দেশগুলো তাদের মাটিতে মার্কিন ঘাঁটি করার অনুমতি দেয়। একই সঙ্গে তিনি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের বর্তমান কাঠামো ও ক্ষমতা পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।







