রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলায় এক তরুণীকে মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে বিএনপি নেতার ছেলেসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বুধবার (১ এপ্রিল) ভুক্তভোগী তরুণী নিজে বাদী হয়ে পাংশা মডেল থানায় এই মামলা করেন। মামলার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে রাশেদ নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে, যে মামলার ২ নম্বর আসামি।
গ্রেপ্তারকৃত রাশেদ কলিমহর ইউনিয়নের ধানুরিয়া গ্রামের বাসিন্দা। মামলার অন্য দুই অভিযুক্ত হলেন—রাজবাড়ী জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক হাবিবুর রহমান রাজার ছেলে হাসিবুর রহমান অন্তর এবং পারনারায়ণপুর গ্রামের বরকত মুন্সী। নিপীড়নের শিকার ওই তরুণী কুষ্টিয়া জেলার বাসিন্দা বলে জানা গেছে।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ৩০ মার্চ বিকেলে কুষ্টিয়া যাওয়ার জন্য পাংশা মৈশালা বাসস্ট্যান্ডে বাসের অপেক্ষায় ছিলেন ওই তরুণী। এসময় অভিযুক্তরা একটি সাদা মাইক্রোবাসে করে এসে তাকে জোরপূর্বক তুলে নেয়। পরে পাংশার বিভিন্ন স্থানে ঘুরিয়ে তাকে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করে রাত সাতটার দিকে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার একটি জায়গায় ফেলে রেখে যায়।
প্রধান অভিযুক্তের বাবা বিএনপি নেতা হাবিবুর রহমান রাজা তার ছেলের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, তার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করতে এবং আসন্ন উপজেলা নির্বাচনে তাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে একটি কুচক্রী মহল তার ছেলেকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে ফাঁসিয়েছে। তবে তিনি আরও জানিয়েছেন, তদন্তে তার ছেলে দোষী প্রমাণিত হলে তিনি দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করবেন।
পাংশা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মঈনুল ইসলাম জানিয়েছেন, মামলার পর পাংশা শহরের দত্ত মার্কেট এলাকা থেকে রাশেদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পলাতক অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। এছাড়া ভুক্তভোগী তরুণীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
