কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় জালিয়াতির অভিযোগে বরখাস্ত হওয়া এক আওয়ামী লীগ নেতা কর্মস্থলে ফিরে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকাকে মারধরের ঘটনা ঘটিয়েছেন। গত রোববার বেড়াখলা আব্দুল মতিন খসরু বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে এই হামলার ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আমিনুল ইসলাম সুজন এবং তার চাচাতো ভাই সিদলাই ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব সোহেল রানাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষিকা হাসিনা ইসলাম।
মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, আওয়ামী শাসনামলে রাজনৈতিক প্রভাবে জাল সনদে প্রধান শিক্ষক হয়েছিলেন আমিনুল ইসলাম সুজন। পরবর্তীতে ক্ষমতার অপব্যবহার করে দুই কর্মস্থল থেকে বেতন নেওয়া এবং স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগে ২০১৯ সালে তিনি বরখাস্ত হন। সম্প্রতি আদালতের রায়ের দোহাই দিয়ে কর্মস্থলে ফিরে তিনি ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু করেন এবং গত রোববার অর্ধশতাধিক লোক নিয়ে তার ওপর হামলা চালান।
হামলায় সরাসরি অংশ নেওয়ায় যুবদল নেতা সোহেল রানাকে দল থেকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেওয়া হয়েছে। কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা যুবদলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সংগঠনের নিয়মবহির্ভূত কর্মকাণ্ড ও শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে কেন তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা আগামী তিন দিনের মধ্যে সশরীরে উপস্থিত হয়ে লিখিতভাবে জানাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ভুক্তভোগী শিক্ষিকার দাবি, সোহেল রানা তাকে অফিস থেকে টেনেহিঁচড়ে বের করে মারধর ও হত্যার চেষ্টা করেন। ব্রাহ্মণপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম আহমেদ জানিয়েছেন, প্রধান শিক্ষিকার ওপর হামলার ঘটনায় মামলা রেকর্ড করা হয়েছে এবং অভিযুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।







