আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত নিরসনে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে মিসর, সৌদি আরব, তুরস্ক ও স্বাগতিক পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই চতুর্পক্ষীয় আলোচনাকে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতির সবচেয়ে বড় সম্ভাবনা এবং ওই অঞ্চলে ইরান ও ইসরায়েলের প্রভাব সীমিত করার প্রাথমিক ধাপ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। গত রোববার অনুষ্ঠিত এই বৈঠকের মূল লক্ষ্য ছিল উত্তেজনা প্রশমন এবং ওয়াশিংটন ও তেহরানকে একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে রাজি করানো।
সংকট নিরসনে এই দেশগুলোর সক্রিয় হওয়ার পেছনে বড় কারণ হিসেবে কাজ করছে সম্ভাব্য আঞ্চলিক বিপর্যয়। ইসরায়েল ইতিমধ্যে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে এবং সেনা মোতায়েনের পরিকল্পনা করছে। বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে উপসাগরীয় দেশগুলোর পানি শোধনাগার ও বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে, যা পুরো অঞ্চলে এক ভয়াবহ মানবিক ও অর্থনৈতিক সংকট তৈরি করবে। এই ‘দুঃস্বপ্ন’ এড়াতেই দেশগুলো এখন ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করছে।
ইসলামাবাদের এই কূটনৈতিক তৎপরতায় একটি বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে ইরানের সাথে পাকিস্তানের বিশেষ চুক্তিকে। এই চুক্তির ফলে পাকিস্তানের পতাকাবাহী জাহাজগুলো এখন হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদে চলাচল করতে পারবে। এই অর্জন আলোচনার টেবিলে পাকিস্তানের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করেছে। ইরানও ইসলামাবাদকে ওয়াশিংটনের সাথে পরোক্ষ আলোচনার জন্য একটি নির্ভরযোগ্য মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করেছে, যা শান্তি প্রক্রিয়ায় নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে।
তবে এই জোটে কাতারের অনুপস্থিতি বেশ লক্ষ্যণীয়। রাশিয়ার লাফান লিকুইড গ্যাস সুবিধায় হামলার ঘটনায় ইরানকে দায়ী মনে করে কাতার বর্তমানে তেহরানের পক্ষে মধ্যস্থতা করতে আগ্রহী নয়। অন্যদিকে, তুরস্ক এই প্রক্রিয়ায় সবচেয়ে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। আঙ্কারার মতে, এই যুদ্ধের উদ্দেশ্য কেবল ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা ধ্বংস করা নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদে মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে গৃহযুদ্ধ ও রক্তক্ষয়ী দ্বন্দ্ব ছড়িয়ে দেওয়া।
তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান সতর্ক করে বলেছেন, ইসরায়েলের লক্ষ্য হলো মুসলিম দেশগুলোকে একে অপরের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দেওয়া এবং পুরো অঞ্চলকে তাদের দাবার গুটিতে পরিণত করা। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, আমেরিকার সাধারণ মানুষ যুদ্ধ না চাইলেও মার্কিন রাজনীতিতে ইসরায়েলের ওপর চাপ দেওয়ার কার্যকর কোনো পন্থার অভাব রয়েছে। শেষ পর্যন্ত আমেরিকা ইসরায়েলকে নিয়ন্ত্রণে এনে ইরানের সাথে সমঝোতায় পৌঁছাতে পারবে কি না, তার ওপরই নির্ভর করছে এই শান্তি উদ্যোগের ভবিষ্যৎ।







