জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরটি উদ্বোধনের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত থাকলেও বর্তমান সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর অনীহার কারণে এর দুয়ার খুলছে না বলে গুঞ্জন উঠেছে। জুলাই বিপ্লবের শহীদদের রক্তমাখা পোশাক, স্মৃতিচিহ্ন এবং গণভবন প্রাঙ্গণে নির্মিত শত শত প্রতীকী কবরসহ সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হলেও রহস্যজনক কারণে প্রকল্পটি থমকে আছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, জাদুঘরটি চালু করা নিয়ে বর্তমান নীতিনির্ধারকদের মধ্যে এক ধরনের অনীহা কাজ করছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন গণভবনকে জাদুঘরে রূপান্তরের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। বিগত ১৮ মাসে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শহীদদের ব্যবহার্য সামগ্রী সংগ্রহ করে প্রদর্শনীর উপযোগী করা হয়। এমনকি সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস নিজেও বেশ কয়েকবার এটি পরিদর্শন করে দ্রুত উদ্বোধনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তবে বর্তমান সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় থেকে উদ্বোধনের সুনির্দিষ্ট কোনো তারিখ বা সময়সীমা এখনো জানানো হয়নি।
মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সূত্র জানিয়েছে, জুলাই জাদুঘর সর্বস্তরের মানুষের জন্য উন্মুক্ত করার বিষয়ে বর্তমান সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে দ্বিধাদ্বন্দ্ব রয়েছে। যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে ‘কিছু কাজ বাকি আছে’ বলে দাবি করা হচ্ছে, তবে সেই কাজের প্রকৃত ধরন সম্পর্কে কেউ মুখ খুলছেন না। ২০২৫ সালের ৫ আগস্ট এটি উদ্বোধনের কথা থাকলেও ২০২৬ সালের এপ্রিল মাস চলে আসলেও সাধারণ মানুষের জন্য এর প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সাবেক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ক্ষমতায় থাকাকালে জানান, জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদদের ব্যবহৃত জিনিস স্মৃতি আকারে সংগ্রহ করা হয়েছে। চট্টগ্রাম থেকে এটা শুরু হয়। এর জন্য বড় টিম তৈরি করা হয়েছিল। যারা দেশজুড়ে এই সংগ্রহের কাজটি করে। এ লক্ষ্যে কমিটি এবং অনেকগুলো সাব-কমিটি কাজ করেছে।
বিষয়টি জানতে প্রকল্পের তত্ত্বাবধায়ক গণপূর্ত অধিদফতরের নির্বাহী প্রকৌশলী এম এ সাত্তারের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
জানতে চাইলে সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম বলেন, জুলাই স্মৃতি জাদুঘর কবে নাগাদ খুলে দেওয়া হবে, সেটি এখনও চূড়ান্ত হয়নি।
কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, কিছু কাজ বাকি আছে, মূলত সে জন্যই দেরি হচ্ছে।
কী কাজ বাকি আছে, জানতে চাইলে তিনি অপারগতা প্রকাশ করেন।
চলতি বছরের মধ্যে সম্ভাবনা আছে কিনা জানতে চাইলে খৈয়াম জানান, চেষ্টা চলছে। তবে মাস বা তারিখ এই মুহূর্তে বলা যাচ্ছে না।
উল্লেখ্য, এই জাদুঘরে জুলাই বিপ্লবের ঘটনাপ্রবাহ, শহীদদের বীরত্বগাথা এবং বিগত শাসনের নানা নেতিবাচক দিক প্রদর্শনের পরিকল্পনা রয়েছে। সংস্কৃতি ও গৃহায়ন মন্ত্রণালয় যৌথভাবে এর কাজ শেষ করলেও বর্তমানে এটি আমলাতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় পড়ে আছে। জুলাই অভ্যুত্থানের স্মৃতি রক্ষায় এমন দীর্ঘসূত্রতা সাধারণ আন্দোলনকারী ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি করছে।
