মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করায় বুধবার (১ এপ্রিল) ইসরায়েলের দিকে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে সবচেয়ে বড় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্যানুযায়ী, ইরান প্রায় ১০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে, যার মূল লক্ষ্য ছিল ইসরায়েলের কেন্দ্রীয় অঞ্চল। এই হামলার পর তেল আবিব, শেফেলাসহ আশপাশের এলাকায় সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে ওঠে এবং স্থানীয় বাসিন্দারা বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পান।
ইসরায়েলি গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, কয়েকটি এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র বা এর ধ্বংসাবশেষ আঘাত হেনেছে এবং সেখানে উদ্ধারকারী দল কাজ করছে। এবারের হামলায় ইরান ‘ক্লাস্টার ওয়ারহেড’ সমৃদ্ধ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে, যা আকাশেই বিস্ফোরিত হয়ে ছোট ছোট বোমা ছড়িয়ে দেয়। এই হামলার পরপরই ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী তেহরানে ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ‘বিস্তৃত পাল্টা হামলা’ শুরু করার ঘোষণা দিয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে বিমান হামলা চালিয়ে আসছে। এসব হামলায় এখন পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ৩৪০ জন নিহত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে, যার মধ্যে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনিও রয়েছেন। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরান শুধু ইসরায়েল নয়, বরং জর্ডান, ইরাক এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি থাকা দেশগুলোতেও ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।
ইরানের এই পাল্টাপাল্টি হামলার ফলে ওই অঞ্চলে ব্যাপক হতাহত ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি বৈশ্বিক বাজার এবং আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলেও বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। একদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে ইরান যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়েছে, অন্যদিকে যুদ্ধের তীব্রতা আরও বৃদ্ধির আশঙ্কা দেখা দিচ্ছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এক চরম অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড়িয়েছে।







